শাল্লায় ৪ যুবকের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ
সুনামগঞ্জের শাল্লায় ৫ম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে রাস্তায় ইভটিজিং ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে ৪জন যুবকের বিরুদ্ধে।
গত রবিবার (২আগস্ট) বিকালে ভাটগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তায় এই শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও নিয়মিত বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে এই ছাত্রীকে নানা ধরনের কুপ্রস্তাব দেওয়া ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে শাল্লা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন৷
অভিযুক্তরা হলেন তোয়াহিদ মিয়ার ছেলে তানবীর মিয়া (১৯) ও তামীম মিয়া (২১)। এবং ওয়ারিদ মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়া (২৭) ও জীবন মিয়া (২০)। অভিযুক্তরা সবাই শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের ভাটগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ভাটগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। সে স্কুলে যাতায়াতের সময় রাস্তায় তানবীর মিয়া প্রায় পাঁচ মাস যাবৎ বাজে কথাবার্তাসহ বিশ্রী ধরণের অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে। এরপূর্বে ভিকটিম তানবীর মিয়ার বাজে আচরণের বিষয়টি ভিকটিমের পিতা ও স্বাক্ষীগনকে নিয়ে তোয়াহিদ মিয়া ও ওয়ারিদ মিয়াকে জানালে তারা কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো ভিকটিমের পিতা ও স্বাক্ষীদের নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখান। স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্তের বিষয়ে বিচারপ্রার্থী হওয়ায় অভিযুক্ত তানবীর মিয়া ভিকটিমের প্রতি আরো ক্ষিপ্ত হয়।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, গতকাল (২আগস্ট) রবিবার বিকাল অনুমান ৬ টায় ভিকটিম ভাটগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে উল্লিখিত অভিযুক্ত তানবীর মিয়া ও জীবন মিয়া স্কুল ছাত্রীকে পথের মধ্যে ঝাপটে ধরে ভিকটিমের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। পরে অভিযুক্ত তানবীর মিয়া ভিকটিমকে জোরপূর্বক গোপন স্থানে নেয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীর আর্ত-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে অভিযুক্ত তানবীর মিয়া, তামীম মিয়া ও জীবন মিয়াগণ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে উপস্থিত লোকজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিম ভয়ে কোনোদিন স্কুলে যাবেনা বিষয়টি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর ভিকটিমের পিতা ও স্বাক্ষীদের নিয়ে এই বিষয় সম্পর্কে আলোচনার জন্য অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে উল্টো অভিযুক্তরা ভিকটিমের পিতা স্বাক্ষীদের প্রতি চরম উত্তেজিত হয়ে লাঠিসোঠা দিয়ে প্রাণে মারতে উদ্যত হয়। পরে তারা প্রাণ ভয়ে চলে আসে বলে ভিকটিমের পিতা অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শওকত জামিল জানান, আমাদের কাছে ভিকটিমের পিতা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া
নিশিকান্ত সরকার / তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: