সিলেট সহ অতি ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৭ জেলায় বন্যার শঙ্কা

সিলেট সহ অতি ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৭ জেলায় বন্যার শঙ্কা

প্রথম ডেস্ক

০৪/০৮/২০২৬ ১২:৫৯:২৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

টানা ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রংপুর বিভাগের পাঁচটি ও সিলেট বিভাগের দুটি জেলায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা বা সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রকাশিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং সংলগ্ন উজান এলাকায় আগামী তিন দিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে তা বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন কিছু এলাকায় পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে এবং নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সিলেটের কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

রংপুর অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে, আর তিস্তার পানি অপরিবর্তিত থাকলেও আগামী তিন দিনে তা বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া একই সময়ে ধরলা নদীর পানিও কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা ছুঁতে পারে। এতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়তে পারে। এ সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কিছু স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে এবং আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে।

ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, ভোগাই ও কংস নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে, ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও গোমতী নদীর পানি কিছুটা কমেছে, তবে আগামী তিন দিনে এ অঞ্চলের নদীগুলোর পানিও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

রত্না বাউরী

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad