সুনামগঞ্জে অর্থাভাবে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে মন্থরগতি: বিপাকে ৯৩ পিআইসি
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঘনিয়ে এলেও বরাদ্দকৃত অর্থের দ্বিতীয় কিস্তি না পাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতিরা। অর্থাভাবে অনেক হাওরে কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে ধর্মপাশার চন্দ্রসোনার থাল, জয়ধুনা, ধানকুনিয়া, গুরমা, কাইল্যানী, রুইবিল ও সোনামড়ল হাওরে ১২৩ কিলোমিটার বাঁধের কাজ চলছে। ৯৩টি পিআইসিতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২০ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার ১৫৬ টাকা। কাজ শুরুর পর কেবল প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। কাজ চলমান থাকলেও দ্বিতীয় কিস্তি এখনো ছাড় করা হয়নি।
বাঁধের কাজ শেষ করার জন্য আর মাত্র ১০ দিন সময় বাকি থাকলেও টাকা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোনামড়ল হাওরের ৭৪ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি মোজাম্মেল হক জানান, টাকার অভাবে গত দুইদিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। ৭২ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি বাবুল মিয়া জানান, ধারদেনা করে কোনোমতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
চন্দ্রসোনার থাল হাওরের ৫ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল হাই জানান, মাটির কাজ শেষ হলেও ঘাস লাগানো ও ড্রেসিংয়ের টাকা নেই। ৮ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি শাহীন খাঁন জানান, ৩ লাখ টাকা পেয়ে ১০ লাখ টাকার কাজ করে ফেলেছেন; এখন আর খরচ চালানোর সামর্থ্য নেই।
গত রোববার জেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় জানান, তিনি পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি অবগত করেছেন এবং সমন্বয় সভায় দ্রুত টাকা ছাড়ের দাবি তুলেছেন।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, "বরাদ্দের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় টাকা পরিশোধে কিছুটা দেরি হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। আশা করছি সপ্তাহখানেকের মধ্যে পিআইসিরা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়ে যাবেন।"
এ রহমান
মন্তব্য করুন: