মুরগি ও ফলের দামে ঊর্ধ্বগতি
চুনারুঘাটে রমজানের শুরুতেই অস্থির পণ্যের বাজার
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে না হতেই হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে মুরগি, ফল ও খেজুরের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার চুনারুঘাটের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছ ও মুরগিসহ প্রতিটি পণ্যের বাজারে একটি অসাধু চক্র সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্রিম অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
বৃহস্পতিবার উত্তর বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, হঠাৎ করেই প্রতি কেজি মুরগির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে গেছে। বর্তমানে বাজারে সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা, দেশি মুরগি ৬০০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ২১০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ইব্রাহিম মিয়া জানান, উপজেলার খামারগুলোতে পর্যাপ্ত মুরগি না থাকায় বাইরের জেলা থেকে চড়া দামে মুরগি আনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। গরুর মাংস আগের মতোই কেজিপ্রতি ৮৫০ টাকায় বিক্রি হলেও ফলের বাজারে আগুন লেগেছে। আঙ্গুর ৪৮০ টাকা, আপেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং কমলা ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খেজুরের দাম গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৩৪০ টাকার নিচে এখন কোনো সাধারণ খেজুর মিলছে না; উন্নত মানের আজুয়া বা মিজল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা কেজি দরে।
সবজির বাজারে শসা কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে আলু, পেঁয়াজ ও টমেটোর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। সাধারণ ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রমজানের ১০ দিন আগেও যা সাধ্যের মধ্যে ছিল, এখন প্রতিটি পণ্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা বাড়তি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ জিয়াউর রহমান এ বিষয়ে জানান, বাজারে ইফতারি পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অহেতুক মূল্যবৃদ্ধি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: