আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগ
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়মবহির্ভূত কার্যাদেশ
উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে খাদ্যপণ্য সরবরাহের জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পূর্বের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সামিয়া এন্টারপ্রাইজ’ আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের ১০ দিন আগেই ‘কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ’ নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে তড়িঘড়ি করে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহ দরপত্রের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এনে সামিয়া এন্টারপ্রাইজ রিট পিটিশন (নং-২৭২/২০২৬) দায়ের করলে গত ১১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সামিয়া এন্টারপ্রাইজকে সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেন। সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকও পত্রের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ককে এই নির্দেশনা অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দরপত্রের আরও কিছু অনিয়ম নিয়ে দায়ের করা অপর একটি রিটে (নং-৬৩৬/২০২৬) হাইকোর্ট দরপত্র কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন। যদিও তত্ত্বাবধায়ক এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে সাময়িক স্থগিতাদেশ পান, তবে সামিয়া এন্টারপ্রাইজ ফুল কোর্ট শুনানির আবেদন করলে আদালত তা গ্রহণ করেন। অভিযোগ উঠেছে, স্থগিতাদেশ ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কোহিনুর এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।
সামিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু হোসেন অভিযোগ করে বলেন, "তত্ত্বাবধায়ক ই-জিপিতে অদ্ভুত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সূক্ষ্ম কারচুপি করেছেন, যার ফলে অনেকেই শিডিউল জমা দিতে পারেননি। আদালতের রায় অনুযায়ী আমার প্রতিষ্ঠানের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজ করার কথা থাকলেও ১০ তারিখেই জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে এবং রাতারাতি অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে।" ১৫ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে হাসপাতালে কোহিনুর এন্টারপ্রাইজকে খাবার সরবরাহ করতে দেখা যায় এবং এ সময় দৃশ্য ধারণে বাধা দেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লোকেরা।
আদালতের নির্দেশনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান বলেন, "আমার কাছে অফিসিয়াল কোনো চিঠি আসেনি, নতুন কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি নুরুল হক জানান, তারা কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করছেন এবং আদালতের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: