নতুন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা
তাহিরপুরের শুল্ক স্টেশনগুলোতে তিন দশকেও হয়নি উন্নয়ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশন দিয়ে পুনরায় আমদানি কার্যক্রম শুরু হলেও দীর্ঘ তিন দশকের অবকাঠামোগত অবহেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। ১৯৯৩ সালে কার্যক্রম শুরু হওয়া এই তিনটি স্টেশন থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও আজ পর্যন্ত সেখানে কোনো পাকা সড়ক কিংবা আধুনিক ওজন মাপার যন্ত্র (ওয়ে ব্রিজ) স্থাপিত হয়নি। নির্বাচন উপলক্ষে তিন দিন বন্ধ থাকার পর বর্তমানে প্রতিদিন ভারত থেকে কয়লা ও চুনাপাথরবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও জিরো পয়েন্ট থেকে কয়লা ডিপু পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশার কারণে পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা রাজস্ব দিলেও সীমান্ত থেকে স্টেশন পর্যন্ত সড়কগুলো এখনো কাঁচা ও ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে, যা বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আধুনিক ওজন মাপার যন্ত্র না থাকায় সনাতনী পদ্ধতিতে পণ্য পরিমাপ করতে গিয়ে রাজস্ব নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব ও সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।
বড়ছড়া কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি খসরুল আলম জানান, একেকটি শুল্ক স্টেশনে ৩০০-৪০০টি ডিপু থাকলেও সেখানে ট্রাক পৌঁছানোর কোনো পাকা রাস্তা নেই; এমনকি পাটলাই নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে বন্দরগুলো অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় শ্রমিক ও আমদানিকারকরা জানান, বিগত সময়ে বারবার আমদানি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে শহরমুখী হয়েছিলেন, তাই নতুন সরকারের কাছে তাঁদের প্রধান দাবি—সীমান্ত বাণিজ্য সচল রাখা এবং দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
বাগলী শুল্ক স্টেশনের কাস্টম সুপার আনোয়ার পারভেজ জানিয়েছেন, আধুনিক ওজন মাপার যন্ত্র স্থাপনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: