মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে আকুতি
শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশনে বানেছা বেগমের মানবেতর জীবন
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন—প্রতিদিন হাজারো মানুষের ব্যস্ত পদচারণা আর ট্রেনের হুইসেলে মুখর থাকে এই প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এই কোলাহলের মাঝেই এক কোণে নীরবে নিভৃতে কাটছে বৃদ্ধা বানেছা বেগমের জীবন। স্বামী মটাই মিয়ার মৃত্যুর পর ঘরহীন হয়ে পড়া এই নারী এখন খোলা আকাশের নিচে প্ল্যাটফর্মকেই নিজের শেষ আশ্রয় বানিয়ে নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও স্বামী মটাই মিয়ার সঙ্গে রেলওয়ে বস্তির একটি ভাড়া ঘরে সংসার ছিল বানেছা বেগমের। অভাব-অনটন থাকলেও একে অপরের প্রতি ছিল অগাধ ভরসা। কিন্তু স্বামী মারা যাওয়ার পর সেই অবলম্বনটুকু হারিয়ে যায়। আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হওয়ায় ভাড়ার ঘরটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তিনি। এরপর থেকেই শুরু হয় তাঁর যাযাবর জীবন। কখনো প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চে, আবার কখনো শক্ত মেঝেতে শুয়েই রাত কাটে তাঁর। জীবন বাঁচাতে এখন মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নিয়েছেন তিনি। যা পান, তা দিয়ে কোনোমতে দুবেলা দুমুঠো আহার জোটে।
দীর্ঘদিন নতুন কাপড় কিনতে না পারায় ছেঁড়া ও মলিন পোশাকেই দিন কাটাতে হচ্ছে এই বৃদ্ধাকে। স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ মিয়া ও সুজন মিয়া জানান, বানেছা বেগমের কোনো সন্তান বা স্বজন নেই। তাঁর শারীরিক অবস্থাও বর্তমানে বেশ নাজুক। তিনি বড় অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। তাঁকে সরকারিভাবে বয়স্ক ভাতা বা কোনো পুনর্বাসনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
বানেছা বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, “স্বামী মারা যাওয়ার পর আমি একেবারে একা হয়ে গেছি। এক বেলা খেলে অন্য বেলা উপোষ থাকতে হয়। কেউ যদি থাকার একটু জায়গা করে দিত, তবে শান্তিতে মরতে পারতাম।”
শায়েস্তাগঞ্জ জংশনের স্টেশন মাস্টার লিটন চন্দ্র দে বানেছা বেগমের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করে বলেন, “প্লাটফর্মে অনেক অসহায় মানুষ বসবাস করে, বানেছা বেগম তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তাঁর মতো মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাকিফ ইশমাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বানেছা বেগমের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: