বড় দুর্যোগের অশনিসংকেত
সিলেটে এক মাসে ৩২ বার ভূমিকম্পন অনুভূত
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা (ডেঞ্জার জোন) সিলেটে গত এক মাসে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৩২টি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে, যা বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ২৪ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রেকর্ডকৃত এসব কম্পনের মধ্যে ৭টি ছিল মাঝারি মাত্রার (রিখটার স্কেলে ৪.০ থেকে ৫.২) এবং ২৫টি ছিল মৃদু প্রকৃতির। বিশেষ করে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ও ১০ ফেব্রুয়ারির ৪.১ ও ৪.০ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সিলেট শহর থেকে মাত্র ২১ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা—এই তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল এবং ভয়ংকর ‘ডাউকি ফল্ট’ ও ‘কপিলি ফল্ট’-এর সন্নিকটে হওয়ায় সিলেট সবসময়ই বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ১৮৯৭ সালের ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’-এর পর এই অঞ্চলে দীর্ঘ সময় বড় কোনো শক্তি নির্গত হয়নি, যা বর্তমানে বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, ঘন ঘন এই ছোট ও মাঝারি কম্পনগুলো মূলত ‘ফোরশক’ হতে পারে, যা রিখটার স্কেলে ৭ বা ৮ মাত্রার ভয়াবহ কোনো ভূমিকম্পের অশনিসংকেত। এমন পরিস্থিতিতে সিলেট নগরীর অপরিকল্পিত বহুতল ভবন ও সরু রাস্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, জলাশয় ভরাট করে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনার কারণে বড় দুর্যোগে উদ্ধারকাজ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। প্রকৃতি বারবার ছোট কম্পনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দিলেও নগরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত মহড়া এবং সরকারি পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণ করা না হলে যেকোনো সময় সিলেট বড় ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: