শুকিয়ে কাঠ জকিগঞ্জের শাহগলী ও কোদালী খাল : সেচ সংকটে বারহালের কৃষি
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাধার শাহগলী খাল ও এর সাথে সংযুক্ত কোদালী খাল বর্তমানে পানিশূন্য হয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। একসময় প্রমত্তা এই খাল দিয়ে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা পাওয়া গেলেও এখন সেখানে ধু-ধু বালুচর। দীর্ঘদিন ধরে খনন ও সংস্কারের অভাব, অবৈধ দখল এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহে বাধার কারণে খাল দুটি তাদের স্বাভাবিক রূপ হারিয়েছে। এর ফলে উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সেচের পানির অভাবে সময়মতো চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং বিকল্প উপায়ে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। পানি না থাকায় মাছ ও জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে এলাকার জীববৈচিত্র্য এখন বিপন্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, খালগুলোর ধারণক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ায় সামনের বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়বে।
বারহাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী জানান, খালগুলো খননের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের এসও মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া ইতিবাচক আশ্বাস দিয়ে বলেন, নাব্যতা হারানো খালের বিষয়ে তাঁরা তৎপর আছেন এবং দ্রুতই কোনো সুখবর দেওয়া সম্ভব হবে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান জানান, বর্তমানে এই সংক্রান্ত কোনো বরাদ্দ বা প্রকল্প তাঁর হাতে নেই, তবে সুযোগ এলে তা কাজে লাগানো হবে। অন্যদিকে, উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, নির্দেশ পেলে তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত। শাহগলী ও কোদালী খালকে পুনরুজ্জীবিত করে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় জকিগঞ্জবাসীর এখন প্রধান দাবি—অবিলম্বে কার্যকর খনন প্রকল্প গ্রহণ ও খালগুলোকে দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: