বিয়ানীবাজারে আবাদি জমির মাটি কাটার মহোৎসব: হুমকিতে কৃষি ও পরিবেশ
Led Bottom Ad

বিয়ানীবাজারে আবাদি জমির মাটি কাটার মহোৎসব: হুমকিতে কৃষি ও পরিবেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিয়ানীবাজার

২২/০২/২০২৬ ১৭:৪২:০৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের বিয়ানীবাজারে আইনের তোয়াক্কা না করে আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) বিক্রির হিড়িক পড়েছে, যার ফলে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে কৃষিজমি। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র, ট্রাক মালিক ও চালকদের যোগসাজশে উপজেলার অন্তত ৩০টি স্থানে ফসলি জমিতে এক্সকাভেটর (ভেকু) বসিয়ে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ডাম্প ট্রাক ও নিষিদ্ধ ট্রলি দিয়ে বিভিন্ন বসতবাড়ি, পুকুর ভরাট এবং ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে পাশের ঘরবাড়ি ও সরকারি রাস্তাঘাট যেমন ঝুঁকিতে পড়ছে, তেমনি ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে সৃষ্ট ধুলোবালিতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এভাবে মাটির টপসয়েল কেটে নেওয়ার ফলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দেবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাদি জমি ধ্বংসের পাশাপাশি মাটিবোঝাই ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, অবৈধ মাটি পরিবহনে জড়িত থাকার দায়ে ইতিমধ্যে একটি ট্রাক আটক করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত অভিযান আরও জোরালো করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবীবা মজুমদার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষিজমির টপসয়েল কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে পূর্ব অনুমোদনের প্রয়োজন এবং গ্রামীণ সরু সড়কে ডাম্প ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কৃষিজমি রক্ষায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শিগগিরই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad