ওসমানীনগরে সিসি ক্যামেরা প্রকল্পে ইউএনও’র বিরুদ্ধে ৩৮ লাখ টাকা দূর্নীতির অভিযোগ
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ভোটকেন্দ্র ও জনবহুল এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ৩৮ লাখ ১৪ হাজার ৯৯৭ টাকার এই প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ বরাদ্দ দেখিয়ে লুটপাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই গত ১০ ফেব্রুয়ারি ৫৪টি ভোটকেন্দ্রের বিপরীতে ছয় লাখ ৫৬ হাজার টাকা অগ্রিম বিল হিসেবে উত্তোলন করেন ইউএনও। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যয় হওয়ার কথা ৩২ হাজার ৮০০ টাকা হলেও ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৭ টাকার বিশাল বাজেট করা হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দুর্নীতির বিষয়টি জানাজানি হলে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতের আঁধারে বিভিন্ন বাজারে তড়িঘড়ি করে ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার নিয়োগ নিয়ে; কাগজে-কলমে পৃথক প্রতিষ্ঠান দেখালেও বাস্তবে সব কাজ করেছেন ইউএনও’র নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘মেসার্স সাইফুল এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক ফখরুল ইসলাম, যিনি ইউএনও’র ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে পরিচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ওই ঠিকাদার ইউএনও’র সরকারি বাংলোতে অবস্থান করে কাজ পরিচালনা করেছেন।
তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ অভিযোগ করেন, বিলে স্বাক্ষর না করলে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চেক হাতিয়ে নিয়েছেন ইউএনও।
যদিও ইউএনও মুনমুন নাহার আশা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, এই প্রকল্প জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো দুর্নীতি হয়নি।
তবে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি ইউএনও’র মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং সব ইউনিয়ন থেকে ১ শতাংশ বরাদ্দ নেওয়ার কোনো নির্দেশনা জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়নি।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: