মহিব হত্যাকাণ্ড
হবিগঞ্জে পৌনে ৩ বছর পর হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করলো পিবিআই
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া শিয়ালদারি গ্রামের যুবক মহিবুর রহমান (২৫) হত্যাকাণ্ডের প্রায় পৌনে তিন বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রাম্য সালিশে জরিমানা ও অপমানের জের ধরে প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে হবিগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. হায়াতুন-নবী।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, মহিবুরের বাবার সঙ্গে অভিযুক্ত ফজলের বাবার কুলখানির অনুষ্ঠানে কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি গ্রাম্য সালিশে গড়ালে ফজলকে আর্থিক জরিমানা করা হয়। এলাকাবাসীর সামনে জরিমানা ও তিরস্কারকে অপমান হিসেবে নেন ফজল। সেই ক্ষোভ থেকেই মহিবুরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।
২০২৩ সালের ২৬ জুন রাত আটটার পর বাড়ি থেকে বের হন মহিবুর। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্জন স্থানে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে ফজল ভারী লোহার রড দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। পরে মরদেহটি বাড়ির পাশের একটি ডোবায় ফেলে রেখে তিনি পালিয়ে যান। নিখোঁজের একদিন পর মহিবুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই জানায়, ঘটনার পর ফজল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন এবং ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ ছিলেন মহিবুরের পরিবার। নিহতের বাবা মো. আতর আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিচার পেতে নানা জায়গায় ঘুরেছেন তাঁরা। এখন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় ন্যায়বিচারের আশা দেখছেন।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যার মোটিভ ও স্বীকারোক্তি পাওয়ায় দ্রুততম সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: