টেস্টের পর ক্লাস বন্ধ, তবু মার্চের ফি দাবি
টিউশন ফি’ চেয়ে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের বার্তা,ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা
উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা সামনে রেখে বিভিন্ন কলেজে টেস্ট (নির্বাচনী) পরীক্ষা শেষ হয়েছে। টেস্টের পর নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত ক্লাস স্থগিত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্চ ২০২৬ মাসের টিউশন ফি ও অন্যান্য খাতে বকেয়া দাবি করে অভিভাবকদের কাছে মোবাইল বার্তা পাঠিয়েছে সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক অভিভাবক প্রথম সিলেটের নিজস্ব মেইল এবং ওয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে তথ্য জানিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
কলেজের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তায় মার্চ মাসের জন্য টিউশন ফি ৩ হাজার ৪০০ টাকা, হাউস বেজ ও নেমপ্লেট ফি ৪০ টাকা, পরিবহন খরচ ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিলম্ব ফি ১০০ টাকা চাওয়া হয়েছে। বার্তায় ইংরেজিতে বলা হয়, “Dear Guardian, Please pay the amount for this month, March 2026.”
কয়েকজন অভিভাবক বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে নিয়মিত পাঠদান হয়নি। তবু ওই সময়ের টিউশন ফি নেওয়া হয়েছে। এখন আবার মার্চ মাসের ফি দাবি করায় তাঁরা বিস্মিত। এক অভিভাবক বলেন, “টেস্টের পর ক্লাস বন্ধ। তারপরও মার্চের ফি দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের কাছে অযৌক্তিক মনে হচ্ছে।”
অভিভাবকদের একটি অংশের দাবি, বার্তায় বোর্ডের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো লিখিত প্রজ্ঞাপন তাঁদের দেখানো হয়নি। তাঁদের প্রশ্ন, টেস্টের পর ক্লাস স্থগিত থাকলে কোন নিয়মে মার্চ মাসের টিউশন ফি নেওয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা সরকারি দপ্তর থেকে টেস্ট পরীক্ষা-পরবর্তী সময়ের টিউশন ফি আদায় বাধ্যতামূলক—এমন কোনো প্রকাশ্য নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। সাধারণত মাসিক টিউশন ফি নিয়মিত পাঠদান চলাকালে আদায় করা হয়। পরীক্ষা বা ক্লাস বন্ধকালীন সময়ের ফি আদায় নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো নতুন নির্দেশনার তথ্য মেলেনি।
এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ক্যান্টনমেন্ট পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব নীতিমালার ভিত্তিতে ফি নির্ধারণ করে থাকে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেক অভিভাবক এটিকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেবে এবং প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: