রাজনগরে উচ্ছেদ আতঙ্কে ৩০ পরিবার
Led Bottom Ad

রাজনগরে উচ্ছেদ আতঙ্কে ৩০ পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজনগর

০৫/০৫/২০২৬ ২১:৪৫:৩৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নে ২৫-৩০টি পরিবারকে দীর্ঘদিনের বসতভিটা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে উত্তরভাগ চা বাগান কর্তৃপক্ষ। প্রায় ছয় দশক ধরে বসবাস করে আসা কালাইগুল ও মুটুকপুর গ্রামের এই পরিবারগুলো মাথাগোঁজার ঠাঁই হারানোর শঙ্কায় এখন ক্ষোভ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভুক্তভোগীরা ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে ঢাকার পলিমান অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ উত্তরভাগ চা বাগানটি লিজ নিয়ে পরিচালনা শুরু করে। ২০১৩ সালে বিলীন হয়ে যাওয়া বিমলানগর চা বাগানের মালিক সিদ্ধার্থ সাম ৪৬ একর জমির মালিকানা দাবি করে উত্তরভাগ চা বাগানের বিপক্ষে মামলা করেন। গত বছরের ২৮ অক্টোবর সেই মামলায় সিদ্ধার্থ সাম হেরে যাওয়ায় এখন ওই জমির পূর্ণ মালিকানা দাবি করছে উত্তরভাগ চা বাগান কর্তৃপক্ষ। তবে সংশ্লিষ্ট জমিতে গত ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বেশ কিছু পরিবার সেমিপাকা ঘর নির্মাণ ও গাছপালা লাগিয়ে বসবাস করছে।

ভুক্তভোগী শামিম মিয়া জানান, দেশভাগের আগে থেকেই তাদের পূর্বপুরুষরা এখানে বসবাস করছেন। এখন কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে এবং উল্টো তাদের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। আরেক ভুক্তভোগী ফুলেছা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, "৬০ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে আছি। এখন বাগান কর্তৃপক্ষ আমাদের তাড়িয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। আমরা ঘরবাড়ি ছেড়ে কোথায় যাব?"

অন্যদিকে, উত্তরভাগ চা বাগানের ম্যানেজার মো. লোকমান আহমদ চৌধুরী উচ্ছেদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "বিমলানগর চা বাগানের মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর ৪৬ একর জমির মালিকানা আইনত আমাদের। এর মধ্যে ৭-৮ একর জমি এখনো আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। দখলদারদের জমি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। গত দুইদিন আগে দুটি পরিবার স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে দেয়, কিন্তু আমরা বাকি জায়গা বুঝে নিতে গেলে কিছু উশৃঙ্খল লোক আমাদের ওপর হামলা করে।" তিনি আরও দাবি করেন, পেছনে কিছু ভূমিখেকো লোক কলকাঠি নেড়ে পরিস্থিতি জটিল করছে। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অনড় অবস্থানের কারণে ওই এলাকায় বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আদালতের রায় এবং চলমান মামলার দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট সবার।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad