এখনই পদত্যাগ করছেন না মমতা, ভোট লুটের অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয় সত্ত্বেও এখনই পদত্যাগ করছেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে কলকাতার কালীঘাটে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও মমতা দাবি করেছেন, তৃণমূল হারেনি বরং জোর করে ভোট ও আসন লুট করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। প্রায় ১০০টি আসন লুট করে নেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনই ছিল আসল ‘ভিলেন’। বিজেপি আর কমিশন গটআপ গেম খেলে এই ফল তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি এর সঙ্গে যুক্ত।” তিনি অভিযোগ করেন, গণনাকেন্দ্রে তাঁর এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং সিসি ক্যামেরা বন্ধ রেখে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এমন কলঙ্কিত নির্বাচন আমি আগে দেখিনি। ভোটের আগে বেছে বেছে সব অফিসারদের বদলে দেওয়া হয়েছে। বিচারব্যবস্থা নেই, কেন্দ্রীয় সরকার একদলীয় শাসন চায়—এমন পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র কোথায় যাবে?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, জয়ী হওয়ার পর বিজেপি কর্মীরা নারীদের ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে, যা একজন নারী হিসেবে তাঁকে চরম অপমানিত করেছে।
তবে নির্বাচনে হারলেও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সংহতি নিয়ে আশাবাদী তৃণমূল নেত্রী। তিনি জানান, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব ও উদ্ধব ঠাকরেসহ জোটের শীর্ষ নেতারা তাঁকে ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। বুধবার লখনউ থেকে অখিলেশ যাদব কলকাতায় আসতে পারেন বলেও তিনি জানান। মমতা বলেন, “বিজেপিবিরোধী এই লড়াই থামবে না। জোট আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াব।”
সংবাদ সম্মেলনে মমতার পাশে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ফিরহাদ হাকিম, ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো শীর্ষ নেতারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরাজয় মেনে না নিয়ে লড়াকু মেজাজ বজায় রেখে মমতা মূলত তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার এবং জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপিবিরোধী অবস্থান আরও শক্ত করার ইঙ্গিত দিলেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: