ভারতের শেষ বাম দুর্গের পতন: কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের জয়
ভারতের বামপন্থী রাজনীতির দীর্ঘ সাত দশকের ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তনের সূচনা হলো। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার পর এবার ভারতের একমাত্র বাম শাসিত রাজ্য কেরালায়ও বাম জোটের (এলডিএফ) শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। সোমবার (৪ মে ২০২৬) কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে ভারতের কোনো রাজ্যেই আর বামপন্থীরা ক্ষমতায় রইল না।
ফলাফল অনুযায়ী, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) ভূমিধস জয় পেয়ে ক্ষমতায় ফিরছে। ১৪০ সদস্যের বিধানসভায় ইউডিএফ ১০২টি আসনে জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে এককভাবে কংগ্রেস পেয়েছে ৬৩টি আসন। অন্যদিকে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) মাত্র ৩৫টি আসনে জয় পেয়েছে। এই পরাজয়ের দায়ভার গ্রহণ করে পিনারাই বিজয়ন ইতিমধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে কেরালায় বিজেপি উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটিয়েছে। দলটির রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখরসহ মোট তিনজন বিজেপি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, যা কেরালায় গেরুয়া শিবিরের জন্য একটি বড় মাইলফলক। পিনারাই বিজয়ন সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনরোষ এবং ১০ বছরের শাসনের ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’ ফ্যাক্টর ইউডিএফ-কে এই বিশাল জয়ের পথে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ভারতে বাম রাজনীতির সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালে এই কেরালা থেকেই, যেখানে গণতান্ত্রিকভাবে বিশ্বের প্রথম কমিউনিস্ট সরকার নির্বাচিত হয়েছিল। এরপর পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় টানা শাসনের মধ্য দিয়ে বামরা দীর্ঘকাল ভারতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছিল। কিন্তু ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ ও ২০১৮ সালে ত্রিপুরা হাতছাড়া হওয়ার পর কেরালাই ছিল তাদের শেষ ভরসা। এই পরাজয়ের পর ভারতের মূলধারার রাজনীতিতে বামপন্থীদের অস্তিত্ব এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ল। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কেরালায় পিনারাই বিজয়নের দীর্ঘ এক দশকের শাসনের অবসান ঘটল এবং কংগ্রেস জোটের জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: