মৌলভীবাজারে সরকারি জায়গায় 'মৌখিক অনুমতিতে' মার্কেট নির্মাণ
Led Bottom Ad

বিতর্কের মুখে পুলিশ প্রশাসন

মৌলভীবাজারে সরকারি জায়গায় 'মৌখিক অনুমতিতে' মার্কেট নির্মাণ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৫/০৫/২০২৬ ১৯:১৫:১০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজার শহরের সাইফুর রহমান সড়কে অবস্থিত পুরাতন সদর থানার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জায়গায় কোনো লিখিত অনুমতি ছাড়াই একটি বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশ প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই মার্কেটটি নিয়ে এখন খোদ পুলিশ বিভাগ এবং সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সম্পত্তিতে যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও এক্ষেত্রে তার কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন দাবি করেছেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘মৌখিক অনুমতি’ নিয়ে এটি নির্মাণ করেছেন। তবে সেই কর্তৃপক্ষ কে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তিনি জানান, মার্কেটটি পুলিশের কল্যাণে নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে পুলিশ সুপারের এই দাবির সঙ্গে একমত নন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সিলেট রেঞ্জ কার্যালয়ের ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট শাখার পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) নাছির উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো অনুমতির বিষয়ে তিনি অবগত নন। একই তথ্য দিয়েছেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেভিনিউ শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. আজিজুল ইসলাম। তিনি জানান, এমন কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনার অনুমোদন দেওয়ার তথ্য তাদের জানা নেই এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ১৩৫০ বর্গফুট জায়গায় নির্মিত এই মার্কেটে ৯টি দোকান ঘর (কোটা) রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি ইতোমধ্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং ২টিতে পুনাকের (পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি) কার্যালয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুভ নামের এক ভাড়াটিয়া জানান, তিনি ৫ বছরের জন্য ৩ লাখ টাকা অগ্রিম এবং মাসিক ৭ হাজার টাকা ভাড়ায় একটি দোকান বরাদ্দ নিয়েছেন।

মার্কেট নির্মাণ ছাড়াও বর্তমান পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে জনসেবামূলক উদ্যোগ ‘আপনার এসপি’ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ থানায় বসেই ভিডিও কলে সরাসরি এসপির সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান পেতেন। বর্তমানে সেবাটি বন্ধ থাকায় ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া পুলিশ লাইন্সের গরু ও বাছুর রহস্যজনকভাবে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা নিয়েও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। সদস্যরা জানান, আগে তারা লিটারে মাত্র ৪০ টাকা দরে দুধ পেতেন, যা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এসব বিষয়ে পুলিশ সুপার কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad