ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালুর দাবিতে চা-শ্রমিক সংঘের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানে অবস্থিত ‘ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল’ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চা-শ্রমিক সংঘ। ১৫টি চা বাগানের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আগামী ১৫ মের মধ্যে হাসপাতালটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
গত রোববার সন্ধ্যায় শমশেরনগর কার্যালয়ে চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির এক সভা থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় বক্তারা বলেন, গত ২৭ মার্চ এক চা শ্রমিক সন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অজুহাতে হাসপাতালটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশের বড় বড় হাসপাতালে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলেও তা দ্রুত সমাধান হয়, কিন্তু শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবাকে জিম্মি করে দীর্ঘদিন হাসপাতাল বন্ধ রাখার ঘটনা নজিরবিহীন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
সভায় নেতারা উল্লেখ করেন, দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে কর্মরত চা শ্রমিকদের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে ক্যামেলিয়া হাসপাতালের ন্যূনতম চিকিৎসাসুবিধাও কেড়ে নেওয়া তাদের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। অবিলম্বে এই সংকট নিরসনে হাসপাতালটি চালুর কোনো বিকল্প নেই।
চা-শ্রমিক সংঘের জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিকের সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস। সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ণ হাজরার পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক লক্ষ্মীমনি বাক্তি, দপ্তর সম্পাদক রামনারায়ণ গৌড়, প্রচার সম্পাদক কাজল হাজরাসহ জেলা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
বক্তারা সাফ জানিয়ে দেন, ১৫ মের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করে লক্ষাধিক চা শ্রমিকের চিকিৎসাসেবা ফিরিয়ে না দেওয়া হলে তারা রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: