শ্রীমঙ্গলে সন্তানের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে 'অপহরণকারী' সন্দেহে গণপিটুনির শিকার বাবা
অসুস্থ সন্তানের শখ মেটাতে গিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘ছেলেধরা’ বা ‘অপহরণকারী’ গুজবের বলি হয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন এক প্রবাসী বাবা ও তাঁর স্বজনরা; বুধবার (৪ মার্চ) রাত সোয়া ১১টার দিকে শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সৌদি প্রবাসী মো. মিজান (৩৫) তাঁর থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ছয় বছর বয়সী সন্তানের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে শ্রীমঙ্গলে আসেন; মিজানের সাথে তাঁর স্ত্রী মেহেরিন জাহান শ্রাবন্তির বিবাহবিচ্ছেদ হলেও সন্তানের টানে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। বুধবার রাতে তাঁরা সবাই মিলে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খান এবং কেনাকাটা করেন; পরে অসুস্থ শিশুটি বাবার সাথে গাড়িতে ঘোরার বায়না ধরলে মিজান তাকে নিয়ে প্রাইভেটকারে ওঠেন। এ সময় শ্রাবন্তি চিৎকার করে সন্তানকে অপহরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললে মুহূর্তেই এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং একদল উত্তেজিত যুবক গাড়িটি ধাওয়া করে ভাঙচুর শুরু করে। মিজান তাঁর সন্তানকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরতে পারলেও গাড়িতে থাকা তাঁর ভাগ্নে সোহেল ও চালককে উত্তেজিত জনতা গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার খণ্ডচিত্র ছড়িয়ে দিলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুজনকে উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়; পরবর্তীতে শিশুটির মা-বাবাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে যে এটি কোনো অপহরণের ঘটনা ছিল না, বরং পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, বিচ্ছেদ হওয়া দম্পতি ও তাঁদের স্বজনদের সাথে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং উভয়পক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: