অফিসে তালা, পকেটে বেতন
শাল্লায় সরকারি কর্মচারীদের রাজকীয় আয়েশ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতিতে চরম বিশৃঙ্খলা ও উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। সরকারের কঠোর নির্দেশনা ও বিধিমালাকে তোয়াক্কা না করে অফিস চলাকালীন অধিকাংশ দপ্তর তালাবদ্ধ থাকছে। সোমবার (৯ মার্চ) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শনে দেখা গেছে, সকাল ৯টা বাজলেও অধিকাংশ কার্যালয়ে পিয়ন থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।
সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শাল্লা উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, জনসেবা প্রদানের জন্য নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো তখনও তালাবদ্ধ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— উপজেলা সমবায় অফিস, খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, মৎস্য কর্মকর্তার অফিস, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পরিসংখ্যান অফিস, হিসাব রক্ষণ অডিটরের কার্যালয় এবং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়।
সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ অফিসে প্রবেশ করলে দেরিতে আসার কারণ জানতে চাওয়া হয়। তবে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি কেবল বলেন, "আমি সরকারি নিয়ম মানি, এর বাইরে কিছু বলতে পারব না।"
সকাল ১০টা ২০ মিনিটে যুব উন্নয়ন ও সমবায় অফিসের তালা খোলা হয়। দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে অফিস সহকারী জানান, "একটু দেরি হয়ে গেছে।" কর্মকর্তারা কোথায়—এমন প্রশ্নে জানানো হয় তারা ছুটিতে আছেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল মুহিতের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সপ্তাহে মাত্র তিন দিন (মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার) অফিস করেন এবং বাকি সময় সিলেটে অবস্থান করেন। এ বিষয়ে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে, হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর নারায়ণ বৈষ্ণবের কার্যালয়টিও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, "সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতি বা দেরি করে উপস্থিত হওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকার সম্প্রতি এ বিষয়ে কড়া আদেশ জারি করেছে। যারা নিয়ম লঙ্ঘন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা’ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
দূর-দূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন, কর্মকর্তাদের এই স্বেচ্ছাচারিতার কারণে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারি বেতনভুক্ত হয়েও নির্ধারিত সময়ে অফিসে না আসা এবং দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখানোর ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই 'অফিস-সংস্কৃতি' পরিবর্তনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: