নায়েক জুয়েলের বিরুদ্ধে বিশাল মানববন্ধন
দিরায়ে পুলিশ সদস্যের ‘প্রতিহিংসার’ শিকার গ্রামবাসী
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চিতলিয়া গ্রাম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং গ্রামের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। পুলিশের নায়েক জুয়েল দাসের ‘অপেশাদার ও প্রতিহিংসামূলক’ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে চিতলিয়া নাট মন্দির প্রাঙ্গণে এক বিশাল বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
‘চিতলিয়া গ্রামবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন গ্রামের সর্বস্তরের শত শত মানুষ। ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে মন্দির প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া মানুষের উপস্থিতিতে এলাকাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নায়েক জুয়েল দাস একজন সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও নিজ গ্রামের মানুষের বিরুদ্ধে অত্যন্ত নীচ আচরণে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে গ্রাম নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে মানহানি করছেন। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুয়েল দাস তার পদের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এবং বিশেষ করে উদীয়মান ছাত্রদের টার্গেট করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এখন হুমকির মুখে।
আকাশ দাসের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য সূর্যলাল দাস, কৃষ্ণধন দাস, গণেণ দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা কুমোধ রঞ্জন দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিজন দাস, সেতু রঞ্জন দাস ও সনজিত দাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, "একজন পুলিশ সদস্য যেখানে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, সেখানে জুয়েল দাস ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে গোটা গ্রামকে জিম্মি করে ফেলেছেন। আমরা এই অন্যায়ের অবসান চাই।"
মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দুটি জোরালো দাবি জানানো হয়—১. গ্রামবাসী ও ছাত্রদের নামে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। ২. শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকায় নায়েক জুয়েল দাসের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত এই হয়রানি বন্ধ না হয় এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আগামীতে দিরাইসহ পুরো জেলায় আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: