মুক্তিপণ নিয়ে চলছে চরম নির্যাতন
লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি সুনামগঞ্জের ১৩ যুবক
ইউরোপের স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়ে লিবিয়ায় গিয়ে মাফিয়া চক্রের কবলে পড়েছেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ১৩ যুবক। এখন তাদের জীবন বাঁচাতে ও নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
উপজেলার ফেনারবাক ইউনিয়নের নাজিমনগর গ্রামের মৃত আব্দুস শহিদ মন্টুর স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম, তার ছেলে হুমায়ুন এবং জামাতাসহ একটি দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে এই যুবকরা ১৩ লাখ টাকা চুক্তিতে গত ২৮ জানুয়ারি আবুধাবি, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর একটি স্থানীয় মাফিয়া চক্র তাদেরকে জিম্মি করে রাখে এবং মুক্তিপণ হিসেবে মাথাপিছু ২৬ লাখ টাকা দাবি করে। দরাদরি শেষে ১২ লাখ টাকায় মুক্তি দিতে সম্মত হলেও মাফিয়ারা ভিডিও কলে জিম্মিদের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের চিত্র পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে টাকা পাঠানোর জন্য চরম চাপ সৃষ্টি করছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগীর পরিবার জমি-ঘর বিক্রি ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বিকাশের মাধ্যমে মাফিয়া চক্রের দেওয়া নম্বরে টাকা পাঠিয়েছেন। জিম্মিদের মধ্যে ইয়াসিন মিয়া নামে একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও বর্তমানে তিনি লিবিয়া পুলিশের হাতে বন্দি রয়েছেন।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়ার আবুল হামজার বিধবা মা চোখের পানি ফেলে ভিক্ষা করে হলেও ছেলেকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে দালাল চক্রের মূল হোতারা ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে এবং তাদের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী মিয়া জানান, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের কানে এসেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: