সুনামগঞ্জের যাদুকাটায় টোল-ট্যাক্সের নামে চলছে চাঁদাবাজি
Led Bottom Ad

নির্দেশ অমান্য করে ৫-৬ গুণ বাড়তি অর্থ আদায়

সুনামগঞ্জের যাদুকাটায় টোল-ট্যাক্সের নামে চলছে চাঁদাবাজি

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৩/০৩/২০২৬ ১৫:৪১:৫৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদী থেকে উত্তোলিত বালুবাহী নৌযান থেকে নির্ধারিত হারের চেয়ে ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসন বারবার মাইকিং ও হুঁশিয়ারি দিলেও অসাধু চক্রের চাঁদাবাজি থামছে না। মঙ্গলবার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আবুয়া ও রক্তিনদীর সংযোগস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক টোল আদায়কারীকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি বলে ভুক্তভোগী শ্রমিক ও নৌকার মালিকরা জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাহিরপুরের ফাজিলপুর এলাকা থেকে বালুভর্তি নৌকা বের হওয়ার সময় চারটি পয়েন্টে টাকা আদায় করা হয়। নিয়মানুযায়ী প্রতি ঘনফুট বালুতে ৩০ পয়সা রাজস্ব আদায়ের কথা থাকলেও, প্রশাসনের খাস কালেকশন ঘাট ও ইজারাদাররা ১ টাকা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত আদায় করছেন। এছাড়া রয়্যালিটি ঘাট থেকে আদায় করা হচ্ছে ঘনফুটপ্রতি ২০ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টোল আদায়ের নামে এই চাঁদাবাজির সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা জড়িত। তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের খাস কালেকশন ঘাটটির নিয়ন্ত্রণে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলীর লোকজন রয়েছেন এবং তার একটি অডিও রেকর্ডও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, যেখানে তিনি প্রতিদিন ৫ লাখ টাকা আয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও জুনাব আলী ও যুবদল নেতা এনামুল হক ইজারার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেও আদায়কারীরা তা তোয়াক্কা করছে না। মো. মানিক ও জাহিদ নামের ভুক্তভোগী নৌকার মাঝিরা জানান, প্রশাসন মাইকিং করলেও আদায়কারীরা জোরপূর্বক ১ টাকা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত নিচ্ছে এবং প্রতিবাদ করলে মারধরের ভয় দেখানো হয়।

এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুরের ইউএনও আব্দুল মতিন খান বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “অভিযান চালানোর পরও দেড় টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, যা অবাক করার মতো।”

এদিকে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল জানিয়েছেন, লোকবল সংকট থাকলেও অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad