বড়গাঙসহ সীমান্তবর্তী জনপদ বন্যার ঝুঁকিতে
সিলেটের নদ-নদীতে বালু খেকোদের আগ্রাসন
ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলাগুলোতে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে প্রতি বছরই জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
পরিবেশবিদদের মতে, এই সংকটের পেছনে বালু খেকোদের অপরিকল্পিত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের আগ্রাসন প্রধান ভূমিকা পালন করছে। জৈন্তাপুরের বড়গাঙ নদীর ৮ কিলোমিটার জুড়ে পাঁচ শতাধিক নৌকার মাধ্যমে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও নাব্য নষ্ট হচ্ছে, যা তীরবর্তী ফসলি জমি ও অবকাঠামোকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা করছে, কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান যে, মূল হোতাদের সরাসরি না পাওয়ায় এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ের অভাবে এই সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলছে না। নদী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশে গভীর খাদের সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রবাহের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই দ্রুত পানি উপচে প্লাবিত হচ্ছে চারপাশ।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় সংগঠক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক এবং সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আবদুল করিম কিম সতর্ক করেছেন যে, প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে খনিজ সম্পদ আহরণের পরিণামে প্রান্তিক কৃষকরা সর্বস্ব হারাচ্ছেন এবং পুরো সিলেট অঞ্চল দীর্ঘস্থায়ী বন্যার ঝুঁকিতে পড়ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্রিজ ও স্থাপনার ৫০০ মিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন ও ডাম্পিং নিষিদ্ধ করা হলেও তা মানা হচ্ছে না, আর স্থানীয়দের অভিযোগ—বালু খেকোদের শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহসও হারিয়ে ফেলছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: