সুধীসমাজে তীব্র নিন্দা
সুনামগঞ্জে সাংবাদিক শামস শামীমকে এনসিপি নেতার হুমকি
দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাংবাদিক শামস শামীমকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি এই হুমকি দেন। অভিযুক্ত আব্দুস সোবহান নিজেকে এনসিপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামধারী কথিত সমন্বয়ক সাফওয়ান কবীর আলীফের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাংবাদিক শামস শামীম নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি মির্জা আব্বাসের মহান মুক্তিযুদ্ধের অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁর প্রতি অভিনন্দন জানান এবং বর্ষীয়ান এই নেতার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একইসাথে, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার ও 'নোংরামি' করছে, তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন তিনি।
সাংবাদিক শামস শামীমের ওই পোস্টে ক্ষিপ্ত হয়ে মন্তব্য করেন মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান। তিনি লেখেন, “অতিরিক্ত দুঃসাহস দেখাবেন না। পরিণাম ভয়ানক হবে।” এছাড়াও তিনি বিভিন্ন আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে সাংবাদিককে ক্রমাগত হুমকি প্রদান করেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আব্দুস সোবহানের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় হলেও বর্তমানে তিনি শহরের বনানীপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আব্দুস সোবহান এনসিপির দোয়ারাবাজার উপজেলার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।”
তবে ফেসবুকে হুমকির বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “কারো ব্যক্তিগত অপরাধ বা মন্তব্যের দায় দল নেবে না।”
একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর এমন প্রকাশ্য হুমকিতে ক্ষুব্ধ সুনামগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা। তাঁরা বলছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এ ধরনের হুমকি কেবল সাংবাদিকের নিরাপত্তাকেই বিঘ্নিত করে না, বরং সুস্থ রাজনীতির অন্তরায়।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: