সিলেটে শিক্ষার্থী অভিবাসনের ঝুঁকি ও প্রতারণা রোধে সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময়
সিলেটে শিক্ষার্থী অভিবাসন সংক্রান্ত ভুল তথ্য, প্রতারণা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘সাত সমুদ্রের ওপারে, সিলেটে অভিবাসন ইস্যুর সংবাদ কাভারেজ জোরদার করা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সেন্টার ফর কমিউনিকেশন অ্যাকশন বাংলাদেশ (সি-ক্যাব)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সেশনে সিলেটের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা শিক্ষার্থী অভিবাসনের বর্তমান বাস্তবতা, তথ্যের ঘাটতি ও অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি সি-ক্যাবের নির্বাহী পরিচালক জেইন মাহমুদ বলেন, শিক্ষার্থী অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সঠিক ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, কারণ ভুল তথ্য ও অনৈতিক দালালচক্রের কারণে তরুণরা প্রায়ই আর্থিক ক্ষতি, মানসিক ভোগান্তি এবং শেষপর্যন্ত ডিপোর্টেশনের শিকার হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সব এজেন্সি খারাপ না হলেও কিছু অসাধু চক্র দায়িত্ব না নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপদে ফেলছে, তাই বাস্তব কেসস্টাডি নিয়ে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী রিপোর্টিং তরুণদের সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আইডিয়ার নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হক সভায় অদক্ষ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, নিজের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিবেচনা না করে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বড় ধরনের সংকটের জন্ম দিচ্ছে।
সভায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. তানজিনা চৌধুরী বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতার অভাবকে অনেকে গুরুত্ব দেয় না, যা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিকরা জানান, সিলেটে বিদেশে যাওয়াকে সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হয় এবং অনেকেই প্রকৃত শিক্ষার্থী না হয়েও পাউন্ড আয়ের লোভে শিক্ষার্থী ভিসার অপব্যবহার করছেন।
সভায় কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ বা ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে ভিসা নেওয়ার ভয়াবহতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সিলেটের স্থানীয় গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সি-ক্যাব জানায়, অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তারা নিয়মিত তথ্যভিত্তিক গাইড তৈরি, বাস্তব অভিজ্ঞতার টেস্টিমোনিয়াল সংগ্রহ এবং কমিউনিটি আউটরিচসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: