ফসলহানির শঙ্কায় কৃষকেরা
অস্বাভাবিক শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বিপাকে সুনামগঞ্জের হাওরবাসী
সুনামগঞ্জে টানা তিন দিনের মুষলধারে বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক আকারের শিলাবৃষ্টিতে হাওরের বোরো ফসল এবং ফসলরক্ষা বাঁধ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জেলার সদর, মধ্যনগর, তাহিরপুর, জগন্নাথপুর ও ধর্মপাশাসহ বিভিন্ন উপজেলায় গত এক দশকের মধ্যে ভয়াবহতম শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে হাওরের ধানগাছের থোড় নষ্ট হয়ে গেছে এবং অনেক স্থানে গাছ থেঁতলে নুয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবারের শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধান, ভুট্টা ও শাক-সবজিসহ প্রায় ৩৭০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে জোয়ালভাঙা হাওরসহ জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফসল রক্ষায় কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন। জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসন করা না গেলে বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা করছেন তারা। দেখার হাওরের কৃষক নুর উদ্দিন আক্ষেপ করে জানান, তার ১৪ কেয়ার জমির মধ্যে ৭ কেয়ারই শিলাবৃষ্টিতে থেঁতলে গেছে। অন্যদিকে, লালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হকের তিন বিঘা জমি বর্তমানে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত।
ফসলের পাশাপাশি হাওরের গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বাঁধগুলো নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওর, জামাইকাটা হাওর ও দিরাইয়ের কালিয়াকোটা হাওরের বিভিন্ন বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের অর্থ ছাড় দেরিতে হওয়ায় বাঁধের কাজ ঠিকমতো সম্পন্ন হয়নি; বিশেষ করে ঘাস লাগানো ও সঠিক কম্পেকশন না হওয়ায় বৃষ্টির ধাক্কায় বাঁধ ধসে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানিয়েছেন, বাঁধে ফাটল ধরা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং তা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাঁধের কারণে ফসলহানির কোনো আশঙ্কা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, এ বছর সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। তবে বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার লাখো কৃষক।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: