হবিগঞ্জে নদী খননের নামে হরিলুট: জাইকার ৬ কোটি টাকায় ‘পুকুর চুরি’
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় জাইকা (JICA) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে বাস্তবায়িত শেরখাই ও নরখাই নদী খনন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও লুটের অভিযোগ উঠেছে। ৬ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নামমাত্র খনন করে পুরো টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই দিনের বৃষ্টিতে নদীতে পানি জমে যাওয়ায় কাজের সব চিহ্ন মুছে গেছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) জন্য ‘আশীর্বাদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পানির নিচে কাজের হদিস না পাওয়ায় সহজেই সরকারি অর্থ ভাগবাটোয়ারা করার পথ প্রশস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় নদী দু’টি খননের কথা থাকলেও শর্ত অনুযায়ী ১০ ফুট গভীরতার বদলে মাত্র ২-৩ ফুট খুঁড়ে দায়সারা কাজ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা আব্দুর রহিম ও ছাদিক মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এটি নদী খনন নয়, বরং নদীর উঠানে প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। খনন করা মাটি তীরে রাখার নিয়ম থাকলেও তা অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।"
অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ হাসান দোলনের নেতৃত্বে একটি সাজানো কমিটির মাধ্যমে এই লুটপাট চলছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কৌশলে অন্য দলের কিছু নেতাকর্মীকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও মূল নিয়ন্ত্রণ যুবলীগ নেতার হাতেই রয়েছে।
প্রকল্পের সভাপতি খালেদ হাসান দোলন অনিয়মের বিষয়ে অসংলগ্ন উত্তর দিয়ে বলেন, "কাজ ঠিকাদার ও প্রকৌশলী অফিস করছে, আমরা শুধু লভ্যাংশ পাব।"
অন্যদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী সাব্বীর আহমেদ দাবি করেন, বৃষ্টির পানি নেমে গেলে বাকি কাজ শেষ করা হবে এবং কাজ না করলে বিল দেওয়া হবে না। তবে সহকারী প্রকৌশলী সিরাজ মোল্লা পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, তাঁরা শুধু দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এই ‘তুঘলকি কাণ্ড’ ও কমিশন বাণিজ্যের বিচার করতে হবে; অন্যথায় সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হবে না এবং রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অপচয় হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: