বিয়ানীবাজারে প্রশাসক নিয়োগের তোড়জোড়: আলোচনায় এক ডজন নেতা
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের পর এবার উপজেলা ও পৌর পর্যায়ে প্রশাসক বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিলেটের বিয়ানীবাজারে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তৎপরতা ও লবিং শুরু হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ও পৌর প্রশাসক পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা ইতোমধ্যেই দলীয় হাইকমান্ডের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি এই তালিকায় প্রার্থীদের অতীত রেকর্ড, দলীয় আনুগত্য এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের প্রশাসক পদের দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমদ রেজা, সাবেক সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল এবং সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার হোসেন। অন্যদিকে, বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রশাসক পদ নিয়ে চলছে আরও জোরালো আলোচনা। সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু নাসের পিন্টু, বর্তমান সভাপতি মিজানুর রহমান রুমেল, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সবুর, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য নজরুল হোসেন, জেলা বিএনপির সহ-স্থানীয় সরকার সম্পাদক এনাম উদ্দিনসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতা। প্রার্থীরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কেন্দ্রে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজমুল হোসেন এবং জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিক আহমদ জানিয়েছেন, দলের ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের তথ্য হাইকমান্ডের কাছে রয়েছে। কেন্দ্র থেকে যাঁকে মনোনীত করা হবে, তাঁর নেতৃত্বেই সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রার্থীদের এলাকায় প্রভাব ও পূর্বের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে; কোনো নেতিবাচক রেকর্ড থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন—এমন গুঞ্জনও রয়েছে। বর্তমানে বিয়ানীবাজারের চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কার্যালয় পর্যন্ত সবার নজর এখন কেন্দ্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: