স্বজনদের আহাজারি ও ভয়ংকর প্রতারণার তথ্য
ভূমধ্যসাগর ট্রাজেডির নেপথ্যে সুনামগঞ্জের দালাল আজিজুল
ভূমধ্যসাগরে ১৮ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মূল খলনায়ক হিসেবে উঠে এসেছে লিবিয়া প্রবাসী দালাল আজিজুল ইসলামের নাম। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাঁও গ্রামের মন্তাজ মিয়ার ছেলে এই আজিজুল দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় অবস্থান করে মানবপাচার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। বড় জাহাজে করে ইউরোপ পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়ে ছোট নৌকায় তুলে দেওয়া এবং মাঝপথে জিপিএস ট্র্যাকার বা লোকেশন ম্যাপ না দিয়েই সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
নিহত শায়েখ আহমদের ফুফু শেলী বেগম ও রেখা বেগম বিলাপ করতে করতে জানান, আজিজুল বড় জাহাজের কথা বলে ছোট নৌকায় তাদের স্বজনদের তুলে দিয়েছিল। জমি ও গরু বিক্রি করে দেওয়া টাকা নেওয়ার পর তাদের বলা হয়েছিল সবাই নিরাপদে পৌঁছে গেছে, অথচ বাস্তবে তারা না খেয়ে সাগরে ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছে।
জগদলের জীবিত ফিরে আসা রোহান আহমেদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, দুই দিনের পথ তিন দিন ধরে সাগরে ভাসার পর একে একে না খেয়ে মানুষ মারা যেতে থাকে। এমনকি নৌকায় থাকা লাশের গন্ধে এবং পানিশূন্যতায় আলী আহমদ ও নাঈমের মতো তরুণরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, আজিজুল এই মরণফাঁদ পাতার আগে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্য থেকেই কাউকে বোট চালানো শিখিয়ে ম্যাপ ছাড়াই সাগরে ছেড়ে দেয়। নিহতদের স্বজন শহীদুল ইসলাম জানান, আজিজুল বড় বোটের কথা দিলেও শেষ মুহূর্তে ছোট নৌকায় লোক তুলে দেয় এবং 'গেইম সাকসেস' হয়েছে বলে মিথ্যা আশ্বাস দেয়।
জগন্নাথপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারগুলো আজিজুলের সম্পৃক্ততার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। তবে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন এই দালাল চক্রের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ করছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: