জলাবদ্ধতায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর বোরো ফসল
দেখার হাওরে ফসল বাঁচাতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বাঁধ কাটলেন কৃষকরা
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দেখার হাওরের প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায়, বাধ্য হয়ে নিজেদের উদ্যোগে ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে দিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের কাড়াড়াই গ্রামের পাশের ১৯ নম্বর প্রকল্পের বাঁধটি ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে দেওয়া হয়। কৃষকদের অভিযোগ, হাওরের পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ না থাকায় এবং প্রশাসনের কাছে বারবার দাবি জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তারা এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন। এর আগে গত বুধবার (১ এপ্রিল) একইভাবে ১৬ নম্বর প্রকল্পের পুটিয়া নদীর ক্লোজারটিও কেটে দিয়েছিলেন স্থানীয়রা। যার ফলে পানি কিছুটা কমায় কৃষকদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় আজ ১৯ নম্বর প্রকল্পের বাঁধটি পুনরায় কাটা হয়েছে।
কৃষক ছমির উদ্দিন ছালেহ জানান, চোখের সামনে হাজার হাজার হেক্টর সোনালী ফসল তলিয়ে যেতে দেখে তারা নিরুপায় হয়ে নিজেদের অর্থায়নে এই কাজ করছেন এবং পানি নিষ্কাশন শেষে পুনরায় বাঁধটি বেঁধে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মাটি ও বস্তা আগেভাগেই মজুত করে রেখেছেন।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া ও ইউপি সদস্য ছাদেক মিয়া জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর সমাধান না আসায় কৃষকরা নিজ দায়িত্বে বাঁধ কেটেছেন, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় সংস্কার করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, কৃষকরা বিষয়টি আগে জানালেও বোর্ড থেকে বাঁধ কাটার কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি, তবে প্রতিটি বাঁধের বর্তমান অবস্থা সার্ভে করে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান সরজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে জানান, কৃষকরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাঁধটি পুনরায় বেঁধে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন; তবে তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে বাঁধ নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের সঠিক পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: