মে দিবস আজ
চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় সংকট: ১৭৮ টাকা মজুরিতে মানবেতর জীবন
দেশের চা শিল্পের প্রাণশক্তি প্রায় দেড় লাখ চা শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পরও ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এই বিশাল জনগোষ্ঠী বর্তমানে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক উপদেষ্টা রামভজন কৈরী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও মজুরি বৃদ্ধি, ভূমির অধিকার, উন্নত বাসস্থান ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো অপূরণীয় থেকে যাওয়ায় শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ১৬৭টি চা বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলাতেই রয়েছে ৯২টি বাগান। এ অঞ্চলের ৮৫ হাজার ৫৪১ একর জমি থেকে দেশের মোট চা উৎপাদনের প্রায় ৭৫ শতাংশ উৎপাদিত হয়। অথচ এই বিশাল উৎপাদনের কারিগরদের মজুরি বৃদ্ধির চিত্র খুবই ধীর। ২০১৫ সালে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ৮৫ টাকা। দফায় দফায় আন্দোলনের পর বর্তমানে তাদের দৈনিক মজুরি দাঁড়িয়েছে ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সায়। যদিও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বাড়ছে এবং আগামী আগস্টে আরও একবার বৃদ্ধির কথা রয়েছে, তবুও বর্তমান বাজার পরিস্থিতির তুলনায় এই আয়কে ‘অত্যন্ত নগণ্য’ বলে মনে করছেন শ্রমিকেরা।
রামভজন কৈরী আরও বলেন, চা শ্রমিকদের আজীবন দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে তাদের বাসস্থানের জায়গাটুকু নিজেদের নামে নিবন্ধিত করে দেওয়া জরুরি। ভূমির অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই অবহেলিত জীবনের অবসান ঘটা সম্ভব নয়। শিল্পের সমৃদ্ধি ঘটলেও যাদের পরিশ্রমে এই অর্জন, সেই চা শ্রমিকরা আজ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: