সুনামগঞ্জে অপরিকল্পিত বাঁধ ও দুর্নীতির প্রতিবাদে দিরাই-শাল্লায় গণসমাবেশ
সুনামগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে সৃষ্ট ফসলহানির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিরাই ও শাল্লা উপজেলা। 'হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন'-এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার পৃথক দুটি স্থানে বিশাল গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখান থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাঁধের নামে লুটপাটের কারণে আজ কৃষকের রক্ত পানি করা ফসল তলিয়ে যাচ্ছে এবং এর দায় পাউবো ও প্রশাসনকেই নিতে হবে।
শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দিরাই উপজেলার থানা পয়েন্টে মোস্তাহার হোসেন মোস্তাকের সভাপতিত্বে এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বরাম, চাপতি ও তাড়ল টাংগুয়ার হাওরের কৃষকরা অভিযোগ করেন যে, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের মাধ্যমেই দুর্নীতির বীজ বপন করা হয়েছে। একই দিন বিকেলে শাল্লা বাজারে সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, অপ্রয়োজনীয় পিআইসি গঠন করে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে এবং নামমাত্র মাটির কাজ করে দায় সারা হয়েছে, যার ফলে আগাম বৃষ্টিতে হাজার হাজার হেক্টর বোরো জমি জলাবদ্ধ হয়ে তলিয়ে গেছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জেলা সভাপতি মো. রাজু আহমেদ অভিযোগ করেন, হাওর রক্ষা বাঁধ এখন অসাধু কর্মকর্তা ও নামধারী নেতাদের আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে এবং প্রশাসনের নীরবতা এই লুটেরা চক্রের সাথে তাদের যোগসাজশকেই স্পষ্ট করে। সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীরা তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন—ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পর্যাপ্ত সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রদান, দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে জেলা থেকে অপসারণ। জেলা সহ-সভাপতি ওবায়দুল মুন্সী ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দেন যে, দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে জেলা শহর ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। উভয় সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক এবং দিরাই ও শাল্লা উপজেলার শত শত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উপস্থিত হয়ে এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: