কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ
সুনামগঞ্জে বাঁধ দুর্নীতির প্রতিবাদে কৃষকদের বিশাল গণসমাবেশ
"কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, দুর্নীতিবাজের হবে শেষ"—এই স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জ। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা-উপজেলা প্রশাসনের সিন্ডিকেট ভিত্তিক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছেন হাজারো কৃষক। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন শহীদ মিনারে 'জেলা হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন'-এর ব্যানারে এই বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তারা বাঁধ নির্মাণের নামে সরকারি অর্থ হরিলুট এবং কৃষকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার তীব্র নিন্দা জানান। সমাবেশে মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের কৃষাণী সুলতানা বেগম আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমরা রক্ত জল করে ফসল ফলাই, আর প্রশাসনের আশীর্বাদে পিআইসিরা লুটপাট করে সেই ফসল ডুবিয়ে দেয়। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।" উপদেষ্টা প্রফেসর মহিবুল ইসলাম ও সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন অভিযোগ করেন, পাউবোর প্রকৌশলী এবং স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সমাবেশ থেকে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে ১০টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: পাউবোর প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর ১ ও ২), জেলা প্রশাসক এবং সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও অবিলম্বে প্রত্যাহার; ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ মওকুফ ও ক্ষতিপূরণ প্রদান; ফসলি জমি ও কান্দা কাটা বন্ধ করা; অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং 'কাবিটা নীতিমালা ২০২৩' অনুযায়ী গণশুনানির মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে পিআইসি গঠন করা। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশে ছাতক, মধ্যনগর, শান্তিগঞ্জ, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজারসহ জেলার ১২টি উপজেলার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্ত রঞ্জন তালুকদার, জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল হক, মোজাহিদুল ইসলাম মজনু প্রমুখ। গণসমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সাধারণ কৃষকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই লড়াই এখন সুনামগঞ্জের মানুষের অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: