আকাশে মেঘ, হাওরে দৌড়—ধান তুলতে ব্যস্ত কৃষক
Led Bottom Ad

আকাশে মেঘ, হাওরে দৌড়—ধান তুলতে ব্যস্ত কৃষক

লতিফুর রহমান রাজু. নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ

১৪/০৪/২০২৬ ২০:২৩:০২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাসহ হাওরাঞ্চলের কৃষকদের চোখ এখন আকাশে। বৈরী আবহাওয়া আর পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় দ্রুত পাকা ধান ঘরে তুলতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম জাতের বোরো ধান পেকে গেছে। ফলে কৃষকেরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত। তবে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

কৃষকেরা জানান, প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে একমাত্র বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়ে। সময়মতো বাঁধ নির্মাণ না হওয়া ও কাজে অনিয়মের কারণে অনেক সময় বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে অকাল বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।


এদিকে ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলও হাওরের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন কৃষকেরা। তারা বলছেন, এই ঢল এলে দুর্বল বাঁধ ভেঙে মুহূর্তেই পানিতে ডুবে যেতে পারে পাকা ধান।


কৃষক মহরম আলী বলেন, তাঁর জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ধান ঘরে তুলতে পারা নিয়েই দুশ্চিন্তা। আরেক কৃষক জমির মিয়া জানান, ফসল ভালো হলেও বাঁধের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।


পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কিছু হাওরে ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, বাঁধগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad
Led Bottom Ad