বৈশাখের সকালে জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার পেলেন জগন্নাথপুরের কৃষক দম্পতি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের কৃষক সালেক উদ্দিনের কাছে এবারের পহেলা বৈশাখ শুধু একটি উৎসব নয়, বরং জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ও আনন্দময় দিন হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষের প্রথম সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ফুটফুটে পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছেন তিনি। নববর্ষের নতুন আলোয় নতুন অতিথির আগমনে সালেক উদ্দিন ও রোজিনা বেগম দম্পতির ৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে বইছে আনন্দের বন্যা।
সালেক উদ্দিন জানান, একজন কৃষক হিসেবে তাঁর জীবনের প্রতিটি হিসাব—ধান রোপণ থেকে কাটা—সবই চলে বাংলা মাস গুনে। তাই বৈশাখের প্রথম দিনেই দ্বিতীয় সন্তানের মুখ দেখা তাঁর কাছে এক বিশেষ পাওয়া। তবে এই আনন্দ সহজে আসেনি; এর পেছনে ছিল নির্ঘুম তিন রাতের উদ্বেগ ও ছোটাছুটি। গত রবিবার রাতে স্ত্রী রোজিনা বেগমের প্রসবব্যথা শুরু হলে প্রথমে তাঁকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে এনআইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় মঙ্গলবার ভোর পাঁচটায় স্ত্রীকে নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে ছোটেন সালেক। চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্তে সকাল সাড়ে সাতটায় অস্ত্রোপচার (সিজার) শুরু হয় এবং পৌনে আটটার দিকে পৃথিবীর আলো দেখে তাঁদের নবজাতক।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে নার্স যখন ওটির বাইরে এসে সালেক উদ্দিনের কোলে তাঁর সন্তানকে তুলে দেন, তখন খুশিতে তাঁর দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে আনন্দাশ্রু। সালেক উদ্দিন বলেন, "তিন রাত ধরে ঘুমাতে পারিনি, এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটেছি। অবশেষে বৈশাখের সকালে জীবনের সবচেয়ে বড় সুখবর পেলাম।" মা ও ছেলে দুজনেই বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।
৯ বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির প্রথম সন্তান নাইম আহমদ রাফির বয়স এখন তিন বছর। পহেলা বৈশাখের এই নতুন অতিথি যেন সালেকের কৃষক পরিবারে যোগ করেছে নতুন আশা আর অসীম সম্ভাবনা। অস্ত্রোপচার পরবর্তী আড়ষ্টতার কারণে মা রোজিনা বেগম কথা বলতে না পারলেও পাশে শুয়ে থাকা আদরের সন্তানের দিকে তাকিয়ে তাঁর মুখে ফুটে উঠেছে প্রশান্তির হাসি। জীবনের এই শ্রেষ্ঠ মুহূর্তে এই কৃষক সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতেও ভুলেননি।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: