এলাকায় আতঙ্ক
তাহিরপুরে বিজিবির ‘সোর্স’ সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুন
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তথ্যদাতা বা ‘সোর্স’ সন্দেহে আংগুর মিয়া (৪৫) নামের এক হতদরিদ্র ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার (১৭ মে) ভোর সকালে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রাজাই গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আংগুর মিয়া ওই গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে।
এই ঘটনার পর থেকে পুরো সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় একটি চোরাকারবারি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চোরাকারবারি চক্র আংগুর মিয়াকে বিজিবির সোর্স হিসেবে সন্দেহ করে আসছিল। এর জেরে গত কয়েক দিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আজ ভোর সকালে চক্রের সদস্যরা আংগুরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে সংঘবদ্ধভাবে লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, আংগুর অত্যন্ত দরিদ্র এবং নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তিনি কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কেবল সন্দেহের বশে তাকে পরিকল্পিতভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও তাহিরপুর থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ইসলাম বলেন, "খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।"
হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে এসআই নাজমুল ইসলাম বলেন, "ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওটায় আনার চেষ্টা চলছে।"
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
শামসুল আলম আখঞ্জী/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: