ছাতকের গর্ব রাজবীর: অর্জন করলো জাতীয় ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজবীর দে জাতীয় পর্যায়ে ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অর্জন করেছে। কাব স্কাউটসদের সর্বোচ্চ এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে রাজবীর নিজ এলাকার জন্য এক অনন্য গৌরব বয়ে এনেছে। তার এই অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আত্মীয়-স্বজনসহ পুরো এলাকাজুড়ে এখন আনন্দের আবহ বিরাজ করছে।
রাজবীর দে সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার সাব-ইন্সপেক্টর জয়ন্ত কুমার দে এবং শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রুমা রানী দত্তের বড় ছেলে। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী, শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন এবং সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অত্যন্ত সক্রিয় রাজবীর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বরাবরই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে।
বাংলাদেশ স্কাউটসের কাব কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ, অনন্য নেতৃত্বগুণ, কঠোর শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অসাধারণ দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে জাতীয় পর্যায়ে এই ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই অর্জন শুধু রাজবীরের ব্যক্তিগত সফলতা নয়, বরং এটি পুরো ছাতক উপজেলা ও সুনামগঞ্জ জেলার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
রাজবীরের এই জাতীয় পর্যায়ের অর্জন কিন্তু হঠাৎ করে আসেনি, এটি তার ধারাবাহিক যোগ্যতারই ফসল। এর আগে ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় রাজবীর দে সুনামগঞ্জ জেলার 'শ্রেষ্ঠ কাব শিশু' নির্বাচিত হয়েছিল। পরবর্তীতে সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।
শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক পংকজ দত্ত রাজবীরের প্রশংসায় বলেন: “রাজবীর অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র একজন শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি কাব স্কাউটিং ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে তার আগ্রহ প্রশংসনীয়। জাতীয় পর্যায়ে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক গর্বের বিষয়।”
এলাকাবাসী ও সুধীজনরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে যখন শিশুদের প্রযুক্তির নেতিবাচক আসক্তি থেকে দূরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ, তখন রাজবীরের এই ইতিবাচক কর্মকাণ্ড ও সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
ছেলের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা ও সহকারী শিক্ষিকা রুমা রানী দত্ত বলেন, “ছেলের এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তার সফলতার পেছনে শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সবার দোয়া রয়েছে। ভবিষ্যতে সে যেন দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে পারে, সেজন্য আমি সবার আশীর্বাদ কামনা করছি।”
অন্যদিকে, রাজবীরের বাবা সাব-ইন্সপেক্টর জয়ন্ত কুমার দে শিশুদের সঠিক মানসিক বিকাশের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “শিশুদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তুলতে পারলে তারা একদিন দেশের সম্পদে পরিণত হবে। রাজবীরের এই অর্জন আমাদের পুরো পরিবারকে অনুপ্রাণিত করেছে।”
জাতীয় পর্যায়ে ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ অর্জনের মাধ্যমে রাজবীর দে এখন ছাতক তথা সমগ্র সুনামগঞ্জের এক অনুকরণীয় আলোয় পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতেও সে তার এই সাফল্যের ধারা বজায় রেখে আরও বড় অর্জনের দিকে এগিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: