শ্রীমঙ্গলে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পৃথক দুটি স্থানে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে; শনিবার সকালে ও বিকেলে শ্রীমঙ্গল পৌর শহর ও গ্রামীণ এলাকায় এ দুটি পৃথক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো— মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মনছড়া গ্রামের বাসিন্দা ও প্রবাসী ইদ্রিস আলীর আড়াই বছরের কন্যাসন্তান জামিনা ফেরদৌস জারান (২ বছর ৪ মাস) এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের পূর্ব নোয়াগাঁও (জানাউড়া) গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে রাফি (৭ বছর)। পুলিশ ও স্থানীয় পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের সোনামিয়া এলাকায় নানার বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলার উদ্দেশ্যে বাইরে বের হয় শিশু জামিনা ফেরদৌস জারান, তবে দীর্ঘ সময় পরও ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন; পরে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির পাশের পুকুরে দীর্ঘ আধা ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে। অন্যদিকে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের পূর্ব নোয়াগাঁও গ্রামে নিজেদের বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় অসাবধানতাবশত পুকুরের গভীর পানিতে তলিয়ে যায় শিশু রাফি এবং কিছু সময় পর পুকুরের পানিতে তার মরদেহ ভেসে উঠলে স্বজনেরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাভিদ রাইয়ান বিন শহীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পানিতে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুটি ঘটনাই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং এ বিষয়ে অসাবধানতা ছাড়া অন্য কোনো সন্দেহজনক কিছু না পাওয়ায় ও দুই পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া মেনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দুটি দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: