শ্রীমঙ্গলে এক মাসে ১৪ বন্যপ্রাণী উদ্ধার করল বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন

শ্রীমঙ্গলে এক মাসে ১৪ বন্যপ্রাণী উদ্ধার করল বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

০২/০৬/২০২৬ ১৩:১৬:৩০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত দেশের ঐতিহ্যবাহী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন গত ৩ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এক মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপন্ন ও লোকালয়ে চলে আসা বিভিন্ন প্রজাতির ১৪টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, চিকিৎসা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত এই প্রতিষ্ঠানটি আহত ও অসুস্থ প্রাণীদের উদ্ধার করে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ করার পর বন বিভাগের সহায়তায় পুনরায় প্রকৃতিতে অবমুক্ত করে আসছে।

ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব জানান, গত মে মাসে উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে অজগর, পদ্মগোখরা, ফণিমনসা সাপ, কড়ি খাটুয়া, জঙ্গল প্যাঁচা, লজ্জাবতী বানর এবং বিরল প্রজাতির চিতাবিড়ালসহ বিভিন্ন বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী, যেগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা শেষে ইতোমধ্যে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং কিছু প্রাণীকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় বনের নিরাপদ আবাসে অবমুক্ত করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ক্রমাগত বন উজাড়, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং বনাঞ্চলে মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ বৃদ্ধির কারণে বন্যপ্রাণীগুলো তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ে লোকালয়ে চলে আসছে এবং অনেক সময় মানুষের নির্মম আঘাত কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা পড়ছে; এ অবস্থায় বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না করে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকারী দল বা বন বিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য শ্রীমঙ্গলের সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ১ হাজার ২৫০ হেক্টর আয়তনের জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন বনাঞ্চলে যেখানে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৩৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৫৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ২২ প্রজাতির উভচর, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ১৬৭ প্রজাতির প্রজাপতির সমৃদ্ধ আবাস রয়েছে, সেখানে বন্যপ্রাণীর এভাবে লোকালয়ে চলে আসার ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবিদরা।

তাঁদের মতে, খাদ্যসংকট ও ত্রুটিপূর্ণ বন ব্যবস্থাপনার কারণে বনের আদি বাসিন্দারা হুমকির মুখে পড়েছে; তবে সার্বিক বিষয়ে জানতে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সিলেটের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: