আজমিরীগঞ্জে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী এলাকায় মাত্র ছয় বছরের এক অবুঝ শিশুকে পাশবিক যৌন নির্যাতনের লোমহর্ষক ও নৃশংস অভিযোগে দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র দাস (৪০) নামে এক লম্পটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলা থেকে আজমিরীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত পাষণ্ড দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র দাস আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী গ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা ও এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে, পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই শিশুটিকে অত্যন্ত গুরুতর ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং আজ মঙ্গলবার সকালেই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে আজমিরীগঞ্জ থানায় একটি সুনির্দিষ্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত অ্যাকশনে গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। অত্যন্ত বেদনাদায়ক এই ঘটনার লোমহর্ষক বিবরণ দিয়ে লোকলজ্জার ভয়ে ভেঙে পড়া শিশুটির বাবা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, “অভিযুক্ত দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র দাস এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানারকম বখাটেপনা ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড করে আসছে এবং তার নিজের একটি ছেলে থাকায় আমার অবুঝ কন্যাসন্তানটি সমবয়সী হিসেবে প্রায়ই ওই বাড়িতে গিয়ে খেলাধুলা করত; কিন্তু পৈশাচিক মানসিকতার দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র দাস খেলার সেই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে আমার মেয়ের ওপর এমন নৃশংস ও অমানবিক নির্যাতন চালাবে, তা আমরা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি।”
পারিবারিক ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে দুপুরের দিকে দ্বিজেন্দ্রর ছেলের সঙ্গে তার ছয় বছরের মেয়েটি যথানিয়মে বাড়ির পাশে খেলতে গেলে সেখান থেকে কৌশলে ফুসলিয়ে নিজের নির্জন ঘরে নিয়ে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় দ্বিজেন্দ্র; পরবর্তীতে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় মেয়েটি কোনো রকমে নিজেদের ঘরে ফিরে এসে অনবরত বমি করতে থাকলে এবং তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলে পরিবারের সদস্যরা তার ওপর হওয়া অমানবিক নির্যাতনের বিষয়টি স্পষ্ট বুঝতে পারেন। প্রথমদিকে গ্রামীণ লোকলজ্জা এবং প্রভাবশালীদের ভয়ে বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করলেও পরদিন ২১ মে শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং সে অনবরত অচেতন হয়ে পড়তে থাকলে স্বজনরা তাকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে ভর্তি করান; বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশুটি হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন ঘটনার সত্যতা ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, “অবুঝ শিশুটির বাবার দায়ের করা সুনির্দিষ্ট ও লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজমিরীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে এবং মামলার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে মূল পলাতক আসামি দ্বিজেন্দ্রকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে; আগামীকাল বুধবার (৩ জুন) সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় হবিগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং শিশুটির ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: