ছয়টি দরিদ্র চা শ্রমিক পরিবার নিঃস্ব
জুড়ীতে আকস্মিক বজ্রপাতে ১৩টি গরু ও একটি মহিষের মৃত্যু
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের মধ্যে আকস্মিক ও শক্তিশালী এক বজ্রপাতের ঘটনায় চারণভূমিতে থাকা চা শ্রমিকদের ১৩টি গরু ও একটি মহিষ ঘটনাস্থলেই মারা গেছে; আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কুচাই জ্বালাই পাহাড়ি চারণভূমি এলাকায় এই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক ঘটনাটি ঘটে। আকস্মিক ও প্রকৃতির এই রুদ্ররােষে এলাকার অবলা গবাদিপশুগুলোর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় অন্তত ছয়টি হতদরিদ্র চা শ্রমিক পরিবার তাঁদের একমাত্র সম্বল হারিয়ে আক্ষরিক অর্থেই সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও চা বাগান পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের চেনা রুটিন অনুযায়ী আজ সকালের দিকে কুচাই জ্বালাই এলাকার ছয়জন দরিদ্র চা শ্রমিক তাদের উপার্জনের অন্যতম প্রধান উৎস ও পালিত গবাদিপশুগুলোকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য বাগানের পাশের একটি খোলা মাঠে ছেড়ে দিয়ে এসেছিলেন; কিন্তু দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই পুরো এলাকার আকাশ ঘন কালো মেঘে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং তীব্র ঝড়ো হাওয়াসহ প্রচণ্ড বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার একপর্যায়ে একটি প্রলয়ঙ্কারী ও শক্তিশালী বজ্রপাত মাঠের ঠিক ওই নির্দিষ্ট স্থানে বিচরণরত গবাদিপশুগুলোর ওপর সরাসরি আঘাত হানলে বিকট শব্দের পর মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে থাকা ১৩টি গরু এবং একটি বড় মহিষ ঝলসে গিয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়।
উপান্ত অঞ্চলের অবলা পশুগুলোর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাউয়ুম ঘটনার সত্যতা ও ভয়াবহতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “আজ দুপুরে প্রকৃতির আকস্মিক এক তাণ্ডবে ও বজ্রপাতে আমার ইউনিয়নের কুচাই জ্বালাই এলাকায় ছয়জন অত্যন্ত অসচ্ছল ও দিনমজুর চা শ্রমিকের মালিকানাধীন ১৩টি দুগ্ধজাত গরু ও একটি মহিষের তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়েছে; সংসারের একমাত্র জীবিকা ও শেষ সম্বল হারিয়ে আকস্মিক এই বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতিতে পরিবারগুলো এখন একেবারে পথে বসে গেছে।” তিনি আরও জানান, গ্রামীণ অর্থনীতির এই অপূরণীয় ও আকস্মিক ক্ষতির বিষয়টি ইতিমধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে যাতে দুর্যোগ ও ত্রাণ তহবিল থেকে তাদের দ্রুত পুনর্বাসন করা যায়; এর পাশাপাশি স্থানীয় মৌলভীবাজার-১ আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় চা শ্রমিক পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এবং সরকারি-ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাদের সর্বাত্মক আর্থিক সহায়তা ও নতুন গবাদিপশু ক্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জোরালো আশ্বাস প্রদান করেছেন বলে ইউপি চেয়ারম্যান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: