বড়লেখায় তহসিলদার আশীষ কুমারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

বড়লেখায় তহসিলদার আশীষ কুমারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বড়লেখা

০৩/০৬/২০২৬ ২১:১৫:৫০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার আশীষ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা নানামুখী অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও ব্যাপক দুর্নীতির লিখিত অভিযোগের বহুল প্রতীক্ষিত ও আনুষ্ঠানিক শুনানি আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে; মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কঠোর ও সরাসরি নির্দেশে বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন এই বিশেষ শুনানির তারিখ ও সময় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেছে। বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত ও স্পর্শকাতর এই শুনানিতে অভিযুক্ত তহসিলদার আশীষ কুমার সরকারকে তাঁর দাপ্তরিক যাবতীয় প্রয়োজনীয় মূল নথিপত্র ও রসিদ বইসহ যথাসময়ে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রধান কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য লিখিত নোটিশের মাধ্যমে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; এই উচ্চপর্যায়ের শুনানিতে অভিযোগকারী ভুক্তভোগী সাধারণ ভূমি মালিক এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তা— উভয় পক্ষের জবানবন্দি, বক্তব্য এবং পেশকৃত তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রভাবশালী ভূমি কর্মকর্তা আশীষ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জমি জমা সংক্রান্ত কাজে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় ও নানা হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে তা জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়; পাশাপাশি এই দুর্নীতির খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য স্থানীয় ভুক্তভোগী ভূমি মালিক ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতা, হয়রানি ও ঘুষ দেওয়ার বিবরণ তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে পোস্ট দিতে শুরু করেন, যা নিয়ে পুরো বড়লেখা উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও জনঅসন্তোষের সৃষ্টি হয়। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে স্থানীয় সাধারণ ভূমি মালিকদের পক্ষে করা সুনির্দিষ্ট ও যৌথ লিখিত অভিযোগে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার আশীষ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে জমির বৈধ খাজনা ও দাখিলা আদায়ে সাধারণ কৃষকদের দিনের পর দিন হয়রানি করা, নামজারি বা মিউটেশন কেসে চরম অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি, সরকারি ফি-র বাইরে অতিরিক্ত মোটা অঙ্কের উৎকোচ বা ঘুষ গ্রহণ, সরকারি রসিদ (ডুপ্লিকেট) জালিয়াতি করে টাকা আত্মসাৎ এবং পাহাড়ি এলাকার অবৈধ উপায়ে টিলা ও মাটি কাটার সিন্ডিক্যাটকে বিশেষ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ছায়া দিয়ে সহায়তা করার মতো অত্যন্ত গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ ও প্রবাসী ভুক্তভোগীরা নানাভাবে মানসিক ও সামাজিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করে অভিযোগকারীরা এই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল তদন্ত এবং অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানিয়েছেন; অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগের বিপরীতে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার আশীষ কুমার সরকার তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ একপাক্ষিক ও একযোগে অস্বীকার করে সেগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: