নিজ প্রতিষ্ঠান সৎপুর মাদ্রাসায় ভিসি ড. মো. রইছ উদ্দিন সংবর্ধিত

নিজ প্রতিষ্ঠান সৎপুর মাদ্রাসায় ভিসি ড. মো. রইছ উদ্দিন সংবর্ধিত

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিশ্বনাথ

১৫/০৬/২০২৬ ০০:২৯:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের বিশ্বনাথে ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৎপুর দারুল হাদিস কামিল মাদরাসার প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থী অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হওয়ায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।


শনিবার (১৩ জুন) মাদরাসার কনফারেন্স হলে হুসাইনিয়া ছাত্র সংসদের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম কেন্দ্রীয় সভাপতি আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী, বলেন হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ তাঁর জন্য কয়েক বার চোখের পানি ফেলেছেন, তাঁর ঐ চোখের পানির বরকতের ফসল হচ্ছেন ড. রইছ উদ্দিন, এগুলোর পাশাপাশি তাঁর মেধা, কঠিন অধ্যাবসায় এবং লাগাতার প্রচেষ্টা তাঁকে এই পর্যন্ত এনে পৌঁছে দিয়েছে, আর তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশ ও জাতির জন্য, মিল্লাত ও ক্বওমের জন্য আমি কিছু করবো, আল্লাহ পাক তাঁর এই স্বপ্নকে কবুল করেছেন।  


সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন তাঁর শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সংবর্ধনা নিতে নয়, নিজের শিকড়কে স্মরণ করতে স্মৃতিবিজড়িত মাদরাসায় হাজির হয়েছি। তিনি তাঁর নিজের ছাত্রজীবন ও সফলতার পেছনে মাদরাসার অবদানের কথা তুলে ধরে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন।


উপাচার্য বলেন, "১৯৭৬ সালে বাবার কোলে চড়ে প্রথম এই মাদরাসায় আসি। এখানকার কঠোর নিয়ম ও সাপ্তাহিক জলসায় কিরাত, হামদ-নাত ও বক্তৃতার যে অনুশীলন আমি করেছি, সেটাই আমার জীবনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। শৈশবে শ্রদ্ধেয় উস্তায আল্লামা তেলিকোনী (রহ.) আমাকে চেয়ারের ওপর দাঁড় করিয়ে বক্তব্য দেওয়াতেন। সেই শিক্ষার আলোকেই আমি জাতীয় পর্যায়ে একাধিকবার প্রথম হয়েছি এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের 'হাউজ অব কমন্স' ও 'কাউন্সিল অব হেপ্রামি'-তে বক্তব্য দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি।"


আজকে আমার যতটুকুই অবস্থান তার পেছনে আল্লামা ফুলতলী রহ. এর নেক নজর রয়েছে, এটা শুধু আমার বক্তব্য নয়, এটি আমার ইয়াকিন।

বক্তব্যে তিনি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা সৎপুরী (রহ.), আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ.) ও আল্লামা মুহাদ্দিস ছাহেব (রহ.)-সহ সকল প্রয়াত উস্তাযদের অবদান গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।


নিজের গৌরবময় ফলাফলের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালে আলিম পরীক্ষায় সারা দেশে মাত্র ৫৭ জন প্রথম বিভাগ পায়, তার মধ্যে আমি ১৭তম হয়েছিলাম এবং পুরো সিলেটে একমাত্র আমিই প্রথম বিভাগ পেয়েছিলাম। এবং ১৯৯০ সালে ফাযিল পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৭ম স্থান অর্জন করি। এই ফলাফলের পর শ্রদ্ধেয় তেলিকোনী ও হামজাপুরী হুজুর শত শত শিক্ষার্থী নিয়ে যে আনন্দ মিছিল করেছিলেন, তা আজও আমার চোখে ভাসে। বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জবি উপাচার্য বলেন, আমার এই অতীত গল্প থেকে যদি বর্তমান শিক্ষার্থীদের মনে ন্যূনতম অনুপ্রেরণা জাগে, তবেই আমার আজকের অনুষ্ঠানে আসা সার্থক হবে।


মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা ছালেহ আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রাক্তন মেধাবী শিক্ষার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকী ও সহকারী শিক্ষক মাওলানা শামীম আহমদের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন ছাত্র সংসদের সহ-সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক নাজমুল আলম তুহিন। হামদ, নাত ও মাদরাসা সংগীত পরিবেশন করেন যথাক্রমে মাহবুবুর রহমান জুবায়ের, মারজান মুহাম্মদ রুহী ও জাকির হোসাইন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সৎপুর দারুল হাদিস কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মহাসচিব মাওলানা এ কে এম মনোওর আলী, গভর্নিং বডির সভাপতি মাওলানা আবু জাফর মুহাম্মদ নুমান, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মাওলানা মঈনুল ইসলাম পারভেজ এবং মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা রশিদ আহমদ চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন হুসাইনিয়া ছাত্র সংসদের ভিপি মুহাম্মদ ইউসুফ খান।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল বাছিত, সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ মুনির উদ্দিন, কালারুকা লতিফিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহবুবুর রহমান তাজুল, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুর রহমান ধনপুরী, শাহ সুফি মুজাম্মিল আলী (রহ.) আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা ছাদিকুর রহমান, সিংগেরকাছ আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ খছরুজ্জামান, এলাহাবাদ ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা হরমুজ আলী, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা নজির আহমদ হেলাল, মুহাদ্দিস মাওলানা গোলাম মওলা, সহকারী অধ্যাপক (বাংলা) আলীনুর হোসেন বিপ্লব, সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) বিল্লাল হোসেন, প্রভাষক মাওলানা তাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা সাইয়ীদ হোসাইন চৌধুরী, মাওলানা সোহেল রানা, সহকারী শিক্ষক মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, প্রভাষক (বাংলা) আব্দুস সামাদ, সহকারী শিক্ষক মোস্তফা হোসেন, মো. আব্দুল হান্নান, রফিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম (বিএসসি), মাওলানা মিসবাহুদ্দীন, দিলোয়ার হোসাইন, মাওলানা জামাল উদ্দিন, মাওলানা নিজাম উদ্দীন, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা আ.ফ.ম. ছলমান এবং সোলাইমান আহমদ।


এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ভুরকী হাবিবিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা হাফিজ শফিকুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ ফয়জুল হক, সৎপুর দারুল হিফজ ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক হাফিজ মাওলানা আশিকুর রহমান, দারুল মুস্তফা দাখিল মাদরাসাে সুপার মাওলানা সাদিকুর রহমান মাসুক, হাউসা ফুরকানিয়া আলিম মাদরাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা ফারুক মাহদী, দূর্লভপুর মোহাম্মদীয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা বায়েজিদ আহমদ, সিলেট জেলা ছাত্রদলের স্কুল-কলেজ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ইমরান মাহমুদ, উপাচার্যের পুত্র ফাতেহ মুহাম্মদ আল রাইছ, বিশিষ্ট মুরব্বি আতাউর রহমান, ইলিয়াছ আলী, সোনাফর আলী, ফজর আলী, মনির উদ্দিন, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (মেম্বার), মাওলানা আমিরুল ইসলাম, সাংবাদিক মাওলানা ফারুক আহমদ, সৈয়দ মো. শফিক মিয়া এবং হুসাইনিয়া ছাত্র সংসদের জিএস আফসার হোসাইনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধীজন।

ফারুক আহমদ

মন্তব্য করুন: