জকিগঞ্জ সীমান্তে মহিষ আনতে গিয়ে যুবক নিখোঁজ

পরিবারের দাবী বিএসএফ ধরে নিয়ে গেছে

জকিগঞ্জ সীমান্তে মহিষ আনতে গিয়ে যুবক নিখোঁজ

মোর্শেদ আলম লস্কর, জকিগঞ্জ প্রতিনিধি

১৫/০৬/২০২৬ ১৯:০৩:৩২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তে আবারও গুলির ঘটনা। এবার ভারতের সীমান্তবর্তী তিন্নখাল এলাকায় মহিষ আনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলার এক যুবক। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাঁর ওপর গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


গুলিবিদ্ধ যুবকের নাম ডিপজল আহমদ (২৬)। তিনি জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা এবং আহমদ আলীর ছেলে।


স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার দিবাগত গভীর রাতে কয়েকজনের সঙ্গে ভারত থেকে মহিষ আনতে সীমান্ত অতিক্রম করেন ডিপজল। ফেরার পথে ভারতের তিন্নখাল সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ সদস্যদের ধাওয়া ও গুলির মুখে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা বাংলাদেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন। তবে ডিপজল পেছনে পড়ে যান। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।


ভারতের অভ্যন্তরে থাকা একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা দাবি করেছেন, সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের কাছাকাছি পৌঁছার পর ডিপজলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা গেলে পরে তাঁর মরদেহ আবার ভারতের সীমান্তের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব তথ্যের কোনো স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানান, ডিপজল গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য তারা পেয়েছেন। তবে তিনি নিহত হয়েছেন, নাকি আহত অবস্থায় ভারতের কোনো স্থানে রয়েছেন—সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।



উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী (টিপু) বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। প্রশাসন অবহিত রয়েছে। এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আমরা দ্রুত প্রকৃত অবস্থা জানতে চেষ্টা করছি।”


জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “গোপন সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরেছি। যেহেতু এটি দুই দেশের সীমান্তসংশ্লিষ্ট বিষয়, তাই বিজিবি ও বিএসএফের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।”


জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি। বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রকৃত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”


এদিকে ঘটনার পর থেকে ডিপজলের পরিবার উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটাচ্ছে। তাঁর স্বজনেরা দ্রুত প্রকৃত তথ্য প্রকাশ, জীবিত থাকলে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিহত হয়ে থাকলে মরদেহ ফেরত আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সীমান্ত এলাকায় প্রাণহানির অভিযোগ নতুন নয়। তবে ডিপজল আহমদের ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য না আসায় তাঁর ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।


মোর্শেদ লস্কর / তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন: