মাউশির শোকজ
সুনামগঞ্জে মঈন উল হক কলেজ অধ্যক্ষের এমপিও বন্ধ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের শূন্যপদে ভুল তথ্য প্রদান, জালিয়াতি এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সুনামগঞ্জের মঈন উল হক কলেজের অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমানের এমপিও বন্ধ করে দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সাথে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কেন চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে।
গত ১৬ জুন (মঙ্গলবার) মাউশির সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশব্যাপী এমপিও বাতিল ও স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে একমাত্র মঈন উল হক কলেজের অধ্যক্ষের নাম রয়েছে। মাউশির বেসরকারি কলেজ-৩ শাখা থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ আসছিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ের নির্দেশে তৎকালীন মৎস্য কর্মকর্তা একটি নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্তে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের সত্যতা প্রমাণিত হলে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
এদিকে, অনুসন্ধানে অধ্যক্ষের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে কলেজের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র সংরক্ষিত থাকলেও, রহস্যজনকভাবে অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমানের নিয়োগ বা আনুষঙ্গিক কোনো বৈধ কাগজপত্র সেখানে পাওয়া যায়নি।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য দেশের সকল আঞ্চলিক পরিচালকদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল। আঞ্চলিক পরিচালকদের পাঠানো প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সারাদেশের ২৩৭টি পদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সম্পূর্ণ ভুল এবং অসত্য চাহিদা (ই-রিকুজিশন) পাঠানো হয়েছে।
ভুল তথ্যের তালিকায় রয়েছে প্যাটার্ন বহির্ভূত পদে শিক্ষক চাওয়া, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাম্য শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও পদ সৃষ্টি করা, আদালতে মামলা চলমান থাকা পদের বিপরীতে ই-রিকুজিশন দেওয়া এবং যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা প্রশাসন থেকে তথ্য চাওয়া হলেও তা সময়মতো সরবরাহ না করা।
মাউশির জারিকৃত নোটিশে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা স্থায়ীভাবে স্থগিতের সুপারিশ করা হবে।
নির্দেশনায় আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, তথ্য সরবরাহ না করা এবং জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ায় ‘জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫’-এর ১৮.১ (ঘ) ধারা মোতাবেক কেন সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষের এমপিও সম্পূর্ণ বাতিল করা হবে না, তার জবাব এবং একই সাথে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপের পর মঈন উল হক কলেজ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই অনিয়মের সুষ্ঠু সুরাহা এবং কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রীতম দাস/ তানজুবা তাবাসসুম
মন্তব্য করুন: