ঘটনার চার দিন পরও জকিগঞ্জ সীমান্তের ওপার থেকে ফেরে নি নিখোঁজ ডিপজল

দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা

ঘটনার চার দিন পরও জকিগঞ্জ সীমান্তের ওপার থেকে ফেরে নি নিখোঁজ ডিপজল

মোর্শেদ আলম লস্কর, জকিগঞ্জ প্রতিনিধি

১৭/০৬/২০২৬ ১৮:৫৩:২০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ডিপজল আহমদ নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার দাবির চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। ঘটনার পর থেকে ওই যুবকের মরদেহ সীমান্তের ওপারে বিএসএফ আটকে রেখেছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। এই দীর্ঘ সময়েও নিখোঁজ যুবকের কোনো হদিস না মেলায় দুই দেশের সীমান্তবর্তী লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।


নিখোঁজ ডিপজল আহমদ জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালি গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে।


স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (১৪ জুন) রাতে ডিপজলসহ কয়েকজন যুবক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে যান। ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এ সময় ডিপজলের সঙ্গে থাকা অন্য যুবকেরা প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে সক্ষম হলেও ডিপজল নিখোঁজ হন।


পালিয়ে আসা যুবকদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা নিশ্চিত করছেন যে, বিএসএফের গুলিতে ঘটনাস্থলেই ডিপজলের মৃত্যু হয়েছে এবং বিএসএফ তার লাশ নিয়ে গেছে।


ঘটনার পর বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও ডিপজলের কোনো সন্ধান বা মরদেহের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সীমান্ত এলাকা থেকে এক ভারতীয় কৃষককে ধরে নিয়ে আসেন উত্তেজিত বাংলাদেশিরা। পরে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় একই দিন সন্ধ্যার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মাধ্যমে ওই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।


বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল মুকিত প্রথম সিলেটকে বলেন, “সীমান্তের ওপারে বিএসএফ গুলি চালালে তিনজন পালিয়ে এলেও একজন নিখোঁজ হন। যারা ফিরে এসেছেন, তারা স্পষ্টভাবে দাবি করছেন নিখোঁজ যুবককে গুলি করে মেরে মরদেহ আটকে রেখেছে বিএসএফ। এই ক্ষোভে স্থানীয়রা একজন ভারতীয়কে তুলে এনেছিলেন, পরে তাকে বিজিবির মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”


বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী (টিপু) উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রথম সিলেটকে বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় নাগরিককে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ফেরত দেওয়া হলেও আমাদের বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজের বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি। সে জীবিত নাকি মৃত, তা বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানায়নি।”


জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক প্রথম সিলেটকে বলেন, “উত্তরকুল সীমান্ত এলাকার লোকজন দাবি করছেন সীমান্তের ওপারে একজনকে গুলি করে মারা হয়েছে। তবে এই নিখোঁজ বা নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।”


এদিকে, সীমান্তের এই চলমান উত্তেজনা এবং বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজের বিষয়ে বিজিবির আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ জানতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। চার দিন ধরে নিখোঁজ ডিপজলের পরিবার ও এলাকাবাসী এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন সীমান্তের ওপার থেকে কোনো খবর আসার অপেক্ষায়।

মোর্শেদ লস্কর / তানজুবা তাবাসসুম

মন্তব্য করুন: