জাফলংয়ে ভারতীয় পণ্য বাজারে বৈধ, পথে অবৈধ!

জাফলংয়ে ভারতীয় পণ্য বাজারে বৈধ, পথে অবৈধ!

নিজস্ব প্রতিনিধি, জৈন্তাপুর

০৯/০৭/২০২৬ ২০:৫০:২৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র জাফলং। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন এখানে। তবে এখানকার বাজারে এসে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। জাফলং বাজারের সিংহভাগ দোকানেই সাজানো রয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য। পর্যটকরা অতিউৎসাহী হয়ে এসব পণ্য কিনলেও, ফেরার পথে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোস্টে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। পর্যটকদের কেনা মালামাল জব্দ করায় ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে-ভারতীয় পণ্য বাজারে বৈধ হলে, পথে অবৈধ কেন?


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকার বাজারে ভারতীয় কসমেটিকস, কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। পর্যটকরা দোকান থেকে পাকা রসিদ (মেমো) দিয়েই এসব পণ্য ক্রয় করছেন। কিন্তু নিজ গন্তব্যে ফেরার পথে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশির নামে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং পণ্য জব্দ করা হচ্ছে।


ভুক্তভোগী পর্যটকদের দাবি, বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলো যদি অবৈধই হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্রেতা বা চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? বিক্রেতাদের ছাড় দিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের কেন হয়রানি করা হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এতে সিলেটের পর্যটন খাতের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।


এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। পণ্যগুলো বাজারে বিক্রির অনুমতি থাকলে ক্রেতাদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে; আর যদি পণ্যগুলো অবৈধ হয়, তবে বিক্রেতা ও মূল সরবরাহকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) উসমান গনি প্রথম সিলেটকে জানান, বৈধ শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়া বিদেশি পণ্য দেশে আমদানি, পরিবহন বা বাজারজাত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক দিয়ে অবৈধভাবে আসা চোরাচালানের পণ্য আটক ও পাচার রোধে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।


তবে জাফলং টুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ তপন তালুকদার-এর কণ্ঠে ভিন্ন সুর। তিনি বলেন, আমরা পর্যটন এলাকায় দায়িত্ব পালন করলেও অবৈধ পণ্য আটকের এখতিয়ার আমাদের নেই। আমরা মূলত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে কাজ করি।


অন্যদিকে, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, যা জাফলং পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ীরা অনেকেই মানছেন না। এ কারণে আমরা বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভারতীয় পণ্য জব্দসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছি।


ভুল বোঝাবুঝি ও হয়রানি এড়াতে দ্রুত প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটকরা।

সাইফুল ইসলাম বাবু / অথৈ

মন্তব্য করুন: