ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, নাকি প্রতিশোধ

ফ্রান্স বনাম মরক্কো

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, নাকি প্রতিশোধ

প্রথম ডেস্ক

০৯/০৭/২০২৬ ২০:৫০:২৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত  রাত ২টায়।বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে রাত ২টায় এক মহাকাব্যিক ব্লকবাস্টার লড়াই! বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী- ফ্রান্স এবং মরক্কো।

চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের সেই রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে ম্যাচটি আবারও টুর্নামেন্টের অন্যতম হট-ফেভারিট বনাম আফ্রিকান ফুটবলের গর্বের এক জমজমাট লড়াই।

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৪ গোল করেছে ফ্রান্স। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দলকে আক্রমণে আরও ভালো করার তাগিদ দেওয়ার কথা বলেন দেশ্যম।

আক্রমণে আমাদের কার্যকর হতে হবে। সব ক্ষেত্রেই উভয় দলের শক্তিশালী দিক রয়েছে।

আমরা কার্যকর, কিন্তু এই জায়গায় আমরা আরও ভালো করতে পারি। কখনও কখনও ছয়টি সুযোগ পেয়ে দুটি গোল করা যায়, আবার কখনও দুটি সুযোগ পেয়ে দুটিই গোল হয়। তাই, কার্যকর হওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কাতার বিশ্বকাপের কথা মনে করিয়ে দিয়ে খেলোয়াড় ও কোচ উভয় ভূমিকায় বিশ্বকাপ জেতা দেশ্যম বলেন, “চার বছর আগে সেমি-ফাইনালে তাদের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছিল। তারা আফকন (আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স) ফাইনালে খেলেছে। তাদের দলে শীর্ষমানের সব খেলোয়াড় আছে। তারা এখানে শুধু খেলতে আসেনি, জিততে এসেছে। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে এবং এই দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে ভালো খেলে জয় বের করে আনতে হবে।”

অন্যদিকে মরক্কোও আছে দুর্দান্ত ফর্মে। নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে এবং কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে তারা কোয়ার্টারে জায়গা করে নিয়েছে। আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে রক্ষণভাগ শৃঙ্খলাবদ্ধ, আর আজ্জেদিন উনাহি আক্রমণে ধারালো। 

দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাসে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও মরক্কো ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে বড় চমক দেখিয়েছে। ২০২২ সালের সেমিফাইনালে ফ্রান্স ২-০ গোলে জয় পেয়েছিল, এবার মরক্কো প্রতিশোধ নিতে চাইবে। 

বিশ্বকাপের এই ম্যাচে ফ্রান্স ফেভারিট হলেও মরক্কোর পাল্টা আক্রমণ ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়েও নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবারের বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পেলেও মরক্কোর ফরোয়ার্ড জাকারিয়া আবুখলাল উচ্চাশা নিয়ে দেখছেন সতীর্থদের খেলা।

আল বাইয়াত স্টেডিয়ামের ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের সেই স্মৃতি আজও অমলিন আবুখলালের। পঞ্চম মিনিটে থিঁও এরনঁদেজের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল মরক্কো। শুরুর ধাক্কা সয়ে লড়াই জারি রেখেছিল দলটি। ৭৯তম মিনিটে কোলো মুয়ানি ব্যবধান দ্বিগুণ করলে আশা শেষ হয়ে যায় তাদের।

আমার সেই ম্যাচের লড়াইয়ের তীব্রতা ও অনুভূতিগুলো এখনও মনে আছে পিছিয়ে পড়লেও বিশ্বাস রেখেছিলাম এবং লড়াই করেছিলাম। ফ্রান্সকে আটকে রাখা কঠিন ছিল, কেননা, প্রতিটি ছোটখাট ভুলেরও সুযোগ নেয় তারা।তাদের গতি, অভিজ্ঞতা এবং এমন খেলোয়াড় আছে, যারা মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। কখনও কখনও আপনি অনুভব করতে পারেন, সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে, কিন্তু একটা পাল্টা আক্রমণে সবকিছু পাল্টে দিতে পারে।

সজল আহমেদ

মন্তব্য করুন: