মৌলভীবাজারে আলোহীন অন্ধ তিন প্রজন্মের তেরোটি জীবন

মৌলভীবাজারে আলোহীন অন্ধ তিন প্রজন্মের তেরোটি জীবন

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজনগর

১৪/০৭/২০২৬ ১৫:৩১:৫০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

কবির ভাষায়-"সকাল আসে, সকাল যায়, আলো ফোটে নিখিলে/ আঁধার কাটেনি শুধু এক উঠোনের তেরোটি কপালে..."। সত্যিই যেন তাই। 


পৃথিবী মেতে ওঠে আলোর উৎসবে, কিন্তু মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের কামাল মুন্সির বাড়ির আঙিনায় সেই আলো কখনো পৌঁছায় না। এই বাড়ির তিন প্রজন্মের ১৩ জন সদস্যের কাছে দিন আর রাতের তফাত শুধু একটাই—দিনের বেলা চারপাশটা একটু গরম থাকে, আর রাতে হিমশীতল ঠান্ডা। কারণ, তারা সবাই জন্ম থেকেই সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন।


বংশপরম্পরার এক নির্মম নিয়তি পিষে মারছে এই পরিবারটিকে। যুগের পর যুগ অন্ধকারের সাথে লড়াই করতে করতে আজ চরম মানবেতর পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়েছে এই অসহায় প্রাণগুলো।


পরিবারের প্রবীণ সদস্য কামাল মুন্সি জানান, এই অন্ধত্ব তাদের রক্তে মিশে আছে। পরদাদা, দাদা, বাবা থেকে শুরু করে আজকের নিষ্পাপ ছোট তিনটি শিশুও এই পৃথিবীর আলো দেখার সৌভাগ্য নিয়ে জন্মায়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি জন্মগত সমস্যা এবং এর কোনো প্রতিকার নেই।


চোখের আলো না থাকায় এই পরিবারের পুরুষদের কোনো কাজকর্ম করার সামর্থ্য নেই। ফলে দুবেলা দুমুঠো অন্নসংস্থান করাই যেখানে দুঃসাধ্য, সেখানে চিকিৎসার চিন্তা আকাশকুসুম কল্পনা।


চরম মানবেতর জীবন কাটানোর পরেও স্রষ্টার প্রতি তাদের কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই। কামাল মুন্সির তরুণ ছেলে বলেন -"আমরা অন্ধ, কাজ-কর্ম করতে পারি না। কোনো জিনিস হাত বাড়াইলে পাই না। তাও আমরা আল্লাহর কাছে খুশি আছি। আপনারা আমাদের সাহায্য করলে আমরা আপনাদের জন্য দোয়া করমু।"


সম্প্রতি এই অবর্ণনীয় কষ্টের খবর পেয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে রাজনগর উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা তাদের জন্য জরুরি খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছেন, যা সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে।


তবে জন্ম থেকে অন্ধ এই পরিবারটির প্রয়োজন স্থায়ী পুনর্বাসন, বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিশ্চয়তা এবং সুচিকিৎসা। এই আলোহীন মানুষগুলোর অন্ধকার জীবনে একটুখানি মানবিকতার আলো জ্বেলে দিতে দেশের ও প্রবাসের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুল আহ্বান জানানো হচ্ছে।


ডিডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad